লোকসভা নির্বাচনের আবহে এবার জ্বালানির জ্বালায় কেন্দ্রকে বিঁধলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনের আগে জনমোহিনী প্রচার চললেও, ভোট মিটলেই মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস উঠবে বলে বিষ্ফোরক দাবি করেছেন তিনি। তাঁর সাফ কথা, নির্বাচন শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বিজেপি সরকার, তারপরেই রান্নার গ্যাস এবং পেট্রোল-ডিজেলের দাম আকাশছোঁয়া হবে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লক্ষ্য করে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ভোট মিটলেই রান্নার গ্যাসের দাম বেড়ে দাঁড়াবে ২০০০ টাকা এবং পেট্রোলের লিটার প্রতি দাম হবে ২০০ টাকা। প্রচারের ময়দান থেকে তিনি সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেন, “এখন ভোট চলছে বলে বিজেপি দাম বাড়াচ্ছে না। কিন্তু ফল ঘোষণার পরেই সাধারণ মানুষের পকেটে বড় ধরনের কোপ বসানো হবে।” তৃণমূল নেতার এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
বিজেপিকে পাল্টা আক্রমণ করে অভিষেক আরও বলেন যে, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার সাধারণ মানুষের সমস্যার চেয়ে বড়লোকদের স্বার্থ রক্ষায় বেশি ব্যস্ত। নির্বাচনের সময় দাম কমিয়ে ভোট আদায়ের কৌশল নতুন কিছু নয়, কিন্তু নির্বাচনের পর সেই বাড়তি বোঝা সাধারণ মানুষের ওপরেই চাপিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি পেট্রোপণ্যের জিএসটি ভুক্ত করা নিয়েও কেন্দ্রের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
পাল্টা বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, অভিষেকের এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ভোটারদের বিভ্রান্ত করার একটি অপচেষ্টা মাত্র। তারা মনে করছে, তৃণমূল পরাজয়ের ভয়ে এই ধরণের আতঙ্ক ছড়ানোর রাজনীতি করছে। তবে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং নির্বাচনের পরবর্তী অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ফলে কি সত্যিই জ্বালানির দাম সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে? অভিষেকের এই ভবিষ্যৎবাণী কি কেবলই রাজনৈতিক গিমিক নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো গভীর অর্থনৈতিক সঙ্কেত, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা চলছে সর্বত্র।