সাধারণতন্ত্র দিবসের ভোরে যখন গোটা দেশ উৎসবে মগ্ন, তখন কলকাতার আনন্দপুরে নেমে এল চরম অন্ধকার। সোমবার ভোররাত ৩টে নাগাদ একটি শুকনো খাবারের গুদামে লাগা বিধ্বংসী আগুনে এখনও পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। জেসিবি দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে একের পর এক নিথর দেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন কর্মী, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে প্রশাসন।
দমকলের ১২টিরও বেশি ইঞ্জিন টানা কয়েক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়েও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। আগুনের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে গুদামের ভেতরের পরিকাঠামো ভেঙে পড়ে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। মৃতদের পরিবারের আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। এই মর্মান্তিক খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান টালিগঞ্জের বিধায়ক অরূপ বিশ্বাস এবং তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ। অরূপ বিশ্বাস নিখোঁজদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের সবরকম সহায়তার আশ্বাস দেন। তবে অগ্নিকাণ্ডের এত সময় পার হয়ে গেলেও ঘটনাস্থলে দমকলমন্ত্রী সুজিত বোসকে দেখা না যাওয়ায় জনমনে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে।
গুদামের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে ইতিমধ্যেই বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সেখানে পর্যাপ্ত ফায়ার এক্সিট বা আগুন নেভানোর সরঞ্জাম ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে দমকল বাহিনী। তবে বর্তমানে প্রাথমিক লক্ষ্য হলো আগুন সম্পূর্ণ নিভিয়ে নিখোঁজদের উদ্ধার করা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য সরাসরি তৃণমূল সরকারকে দায়ী করেছেন। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “সরকার ছুটি কাটাচ্ছে, সরকার না থাকলে যা হয়।” অন্যদিকে, অরূপ বিশ্বাস বলেন, “স্বজন হারানোর যন্ত্রণায় ওনারা দগ্ধ, এই মুহূর্তে রাজনীতি নয়, মানুষের পাশে থাকা জরুরি।” অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও অস্পষ্ট।