ইন্ডিয়া জোটের অন্দরেই কি ক্রমশ বাড়ছে দূরত্ব? লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক এক মন্তব্য ঘিরেই এখন দেশজুড়ে তোলপাড়। জোটের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রাহুল গান্ধী নাম না করেই তৃণমূল কংগ্রেস এবং বামফ্রন্টকে উদ্দেশ্য করে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, জোটে থেকে কংগ্রেসকে আক্রমণ করার নীতি অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
বৈঠকের নেপথ্য চিত্র: সূত্রের খবর, ১৫ মিনিটের দীর্ঘ ভাষণে রাহুল গান্ধী যথেষ্ট ক্ষুব্ধ ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, একদিকে যখন কংগ্রেস একাই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’ বা নির্বাচনী কারচুপির মতো জাতীয় স্তরের ইস্যুতে লড়াই চালাচ্ছে, তখন জোটের শরিক দলের একাংশ কংগ্রেসকেই নিশানা করছে। এই ‘দ্বিচারিতা’ আর বরদাস্ত করা হবে না বলেই মনে করছেন তিনি।
রাহুলের কড়া বার্তা: বৈঠকে রাহুল স্পষ্ট করে দিয়েছেন, জোটের উদ্দেশ্য ছিল বিজেপি বিরোধী শক্তিগুলোকে একত্রিত করা। কিন্তু শরিক দলগুলোর একাংশ সেই উদ্দেশ্যের তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্য মঞ্চে কংগ্রেসের সমালোচনা করে বিজেপির পথ প্রশস্ত করছে।
তৃণমূল-বামকে খোঁচা: যদিও তিনি কারও নাম সরাসরি উচ্চারণ করেননি, তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লির প্রেক্ষাপটে তৃণমূল এবং বামেদের দিকেই তাঁর এই আঙুল তোলা। রাজ্যের রাজনীতিতে কংগ্রেসের দুর্বল অবস্থানকে ব্যবহার করে যেভাবে শরিকরা কংগ্রেসকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে, তাতে রাহুল অত্যন্ত হতাশ।
জোটের ভবিষ্যৎ কোন দিকে? বিরোধী দলনেতার এই মন্তব্য প্রমাণ করে যে, ইন্ডিয়া জোটের অন্দরে বিশ্বাসের অভাব চরম আকার ধারণ করেছে। আসন ভাগাভাগি থেকে শুরু করে রাজ্যভিত্তিক লড়াই—প্রতিটি ক্ষেত্রেই কংগ্রেস যে শরিকদের মনোভাব নিয়ে বিরক্ত, তা আজ স্পষ্ট।
বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে ঐক্যের ডাক দিয়ে যে মহাজোট তৈরি হয়েছিল, রাহুল গান্ধীর এই ক্ষোভ প্রকাশের পর সেই জোটের অস্তিত্ব রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শরিক দলগুলো কি এবার সুর নরম করবে, নাকি রাহুল গান্ধীর এই হুঁশিয়ারিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজেদের লড়াই চালিয়ে যাবে—সেটাই এখন দেখার বিষয়।





