দিল্লির বুকে একসময় যে লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের কথা শুনে শিউরে উঠেছিল গোটা দেশ, সেই হাই-প্রোফাইল মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ওয়াজিদকে নিয়ে ফের তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সোমবার দিল্লির তিহার জেল থেকে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে তাকে সাময়িকভাবে মুক্তি দেওয়া হয়। দিল্লির কুখ্যাত এই কয়েদির প্যারোলের উদ্দেশ্য ছিল বিয়ে সম্পন্ন করা। মাত্র ১০ ঘণ্টার এই বিশেষ প্যারোলের সময় শেষ হতেই ফের তাকে তিহার জেলে ফিরিয়ে নিয়ে গেল দিল্লি পুলিশ।
দশ বছর আগে দিল্লির এক প্রভাবশালী আসবাবপত্র ব্যবসায়ীর পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার অভিযোগে ওয়াজিদ দোষী সাব্যস্ত হয়। এই হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতা আজও মানুষের স্মৃতিতে টাটকা। অভিযোগ, ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে ভৃত্য হিসেবে কাজ করার সুবাদে ওয়াজিদ জানত পরিবারের অন্দরের খুঁটিনাটি। লোভের বশবর্তী হয়ে সে তার সহযোগীদের নিয়ে এক নিখুঁত কিন্তু বীভৎস ষড়যন্ত্রের ছক কষে।
ওয়াজিদ প্রথমে ওই ব্যবসায়ী এবং তার দুই পুত্রকে নির্মমভাবে হত্যা করে। অপরাধের চিহ্ন মুছে ফেলতে দিল্লির ফ্ল্যাটের মেঝেতে গভীর গর্ত খুঁড়ে তাদের দেহ পুঁতে ফেলে এবং ওপর থেকে কংক্রিট দিয়ে ঢালাই করে দেয়। এখানেই শেষ নয়, এরপরেই শুরু হয় তার আসল নৃশংসতা। ব্যবসায়ী ও দুই ছেলের নিখোঁজ হওয়ার পর, পরিবারের বাকি সদস্য—স্ত্রী ও দুই মেয়েকে মুজফফরনগরে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সে গাড়িতে তোলে। এরপর পথে ডেকে নেওয়া হয় তার অন্য সঙ্গীদের। মুজফফরনগরে পৌঁছানোর আগেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় মা ও দুই কন্যাকে। দেহগুলো সামৌলি আখতিয়ারপুর ঘাটের কাছে কালী নদীর তীরে পুঁতে দেওয়া হয়।
পুলিশি তদন্তে প্রায় এক সপ্তাহ পর এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য ফাঁস হয়। দিল্লি পুলিশ ফ্ল্যাট ও নদীর তীর থেকে ছয়টি মৃতদেহ উদ্ধার করে। এই বীভৎস অপরাধের জন্য আদালত ওয়াজিদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে। সেই ওয়াজিদকেই সম্প্রতি ১০ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয় মিরাটের পাভতি আফজলপুরের বাসিন্দা নাসিম আহমেদ আনসারির মেয়ে ইয়াসমিনের সঙ্গে বিয়ের জন্য। দুই পরিবারের মধ্যে আত্মীয়তার সূত্র থাকায় এই বিয়ের তোড়জোড় চলেছিল দীর্ঘদিন ধরে।
সোমবার সকাল থেকেই সামৌলি গ্রামে ছিল কঠোর পুলিশি নিরাপত্তা। প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান ও বিয়ের আইনি কাগজপত্র সম্পন্ন করা হয়। বিয়ের পিঁড়িতে বসে থাকা সেই কয়েদিই একসময় ছিল ছয়টি খুনের মূল কারিগর। সামাজিক ও মানবিক দিক নিয়ে এই ঘটনা ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তবে আইনি বাধ্যবাধকতায় প্যারোলের মেয়াদ ফুরোতেই দিল্লি পুলিশের দল তাকে আবার জেলে নিয়ে যায়। এই ঘটনার পর থেকেই এলাকা জুড়ে উঠেছে বিতর্কের ঝড়। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক অপরাধীকে বিয়ের জন্য এভাবে মুক্তি দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত—তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।





