জেমস ওয়েব টেলিস্কোপে ধরা পড়ল ১২৬০ কোটি বছরের রহস্য, কী লুকিয়ে আছে ‘লোকতাক প্রোটোক্লাস্টার’-এ?

মহাকাশ বিজ্ঞানের দুনিয়ায় ফের ভারতের জয়জয়কার। মণিপুরের তরুণ জ্যোতির্বিজ্ঞানী ডঃ রোনাল্ডো লাইশরাম এবং তাঁর আন্তর্জাতিক গবেষক দল খুঁজে পেলেন মহাবিশ্বের অন্যতম প্রাচীন একটি গ্যালাক্সি বা ছায়াপথ গুচ্ছ। প্রায় ১২.৬ বিলিয়ন (১,২৬০ কোটি) বছর পুরনো এই বিশালাকার কাঠামোর নাম দেওয়া হয়েছে ‘লোকতাক প্রোটোক্লাস্টার’ (Loktak Protocluster)। মণিপুরের ঐতিহ্যবাহী ‘লোকতাক হ্রদ’-এর নামানুসারে এই নামকরণে গর্বিত গোটা দেশ।

কী এই ‘লোকতাক প্রোটোক্লাস্টার’?
বিজ্ঞানীদের মতে, এটি হলো ছায়াপথ তৈরির একেবারে প্রাথমিক পর্যায় বা আঁতুড়ঘর। মহাবিশ্বের বয়স যখন মাত্র ১.২ বিলিয়ন বছর, তখন থেকেই এর অস্তিত্ব ছিল। গবেষকদের কথায়, এটি যেন মহাকাশে অবস্থিত একটি সুবিশাল ‘ছায়াপথের শহর’। দীর্ঘ সময় ধরে মহাকর্ষীয় টানে এই ছায়াপথগুলি একত্রিত হয়ে আজকের এই বিশাল কাঠামো তৈরি করেছে। বিখ্যাত বিজ্ঞান পত্রিকা ‘দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স’-এ এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হতেই বিজ্ঞান মহলে সাড়া পড়ে গিয়েছে।

নামের রহস্য:
বিশ্বের শক্তিশালী টেলিস্কোপ— জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (JWST) এবং সুবারু টেলিস্কোপের সাহায্যেই ধরা পড়েছে এই অসাধ্য সাধন। কিন্তু কেন এই নাম? ডঃ রোনাল্ডো লাইশরাম জানিয়েছেন, মহাকাশে এই প্রোটোক্লাস্টারের গঠনটি হুবহু মণিপুরের লোকতাক হ্রদের বুকে ভেসে থাকা ‘ফুমদি’ বা উদ্ভিদের চাদরের মতো। নিজের জন্মস্থানের এই অনন্য প্রাকৃতিক দৃশ্যকে আন্তর্জাতিক মানচিত্রে চিরস্থায়ী করে রাখতেই তিনি এই নাম রেখেছেন।

ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
১. ডার্ক ম্যাটার ও বিবর্তন: এই আবিষ্কার আদি মহাবিশ্ব, অন্ধকার পদার্থ (Dark Matter) এবং ছায়াপথের বিবর্তন বুঝতে বিজ্ঞানীদের নতুন পথ দেখাবে।
২. ঐতিহাসিক মাইলফলক: ভারতের মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এটি একটি উজ্জ্বল সাফল্যের পালক।
৩. গভীর সমীক্ষা: জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের এই গভীর সমীক্ষা ভবিষ্যতে ব্রহ্মাণ্ডের আরও অনেক অজানা রহস্যের জট খুলতে সাহায্য করবে।

এই অভাবনীয় সাফল্যে মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং বিজ্ঞানী রোনাল্ডোকে বিশেষ অভিনন্দন জানিয়েছেন। এটি শুধু একজন বিজ্ঞানীর সাফল্য নয়, বরং পুরো ভারতের জন্য এক বিশাল প্রাপ্তি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy