প্রত্নতত্ত্বের জগতে বেশিরভাগ প্রাপ্ত জিনিসই জীর্ণ অবস্থায় থাকে, কিন্তু কখনও কখনও এমন চমকপ্রদ প্রত্নতাত্ত্বিক গুপ্তধনের সন্ধান মেলে যা গবেষকদেরও অবাক করে দেয়। এমনই এক বিরল আবিষ্কার সকলকে চমকে দিয়েছে: সম্পূর্ণ নিখুঁত অবস্থায় একটি ডাইনোসরের ডিম! ডিমের খোলায় কোনো ফাটল নেই, তাই এর ভেতরে একটি ভ্রূণও সংরক্ষিত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই আবিষ্কার জীবাশ্মবিজ্ঞানের ইতিহাসে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
সম্প্রতি দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনার পাতাগোনিয়ায় একদল জীবাশ্মবিদ ডিমটি উদ্ধার করেন। অনুমান করা হচ্ছে, ডিমটি ক্রেটেসিয়াস যুগের, অর্থাৎ আনুমানিক ৭ কোটি বছর পুরনো। ডিমটির অক্ষত খোলসই গবেষকদের সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে।
মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল সায়েন্সেস-এর গবেষক দলটির মতে, ডিমটি সম্ভবত মাংসাশী ‘বোনাপার্টেনিকাস’ প্রজাতির ডাইনোসরের। ক্রেটেসিয়াস যুগের শেষভাগে এই ডাইনোসররা পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াত। এই প্রজাতির ডিমের খোলা সাধারণত পাতলা হওয়ায় তা নষ্ট হয়ে যায়। সেখানে এমন অক্ষত ডিমের খোঁজ পাওয়া জীবাশ্মবিদদের কাছে বিরাট প্রাপ্তি।
যদি কোনোভাবে ডিমের ভেতরে কার্যকর ডিএনএ পাওয়া যায়, তবে তা জীবন্ত ডাইনোসর ফিরিয়ে আনার প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে, যা জীবাশ্মবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায় রচনা করবে। এছাড়া, ডিমের ভেতরে যদি ভ্রূণ শনাক্ত করা যায়, তবে মাংসাশী ডাইনোসরের ডিম ফোটার প্রক্রিয়া এবং তাদের প্রজনন কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে।
ডিমটি বর্তমানে গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। গবেষণা শেষে এটি পাতাগোনিয়ার একটি জাদুঘরে সাধারণ মানুষের প্রদর্শনের জন্য রাখা হবে।