আধুনিক জীবনধারা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং মতাদর্শগত পার্থক্যের জাঁতাকলে পড়ে আজ দাম্পত্য সম্পর্কের ভিত টলমল। গাজিয়াবাদের ফ্যামিলি কাউন্সেলিং সেন্টার থেকে সম্প্রতি এমন কিছু চাঞ্চল্যকর ঘটনার তথ্য উঠে এসেছে, যা আমাদের চিরাচরিত পারিবারিক কাঠামোর সংকটকে প্রকট করে তুলেছে। জিন্স-টি-শার্ট পরা, সোশ্যাল মিডিয়ায় রিল বানানো কিংবা বোরকা বা ঘোমটা প্রথা—এই ছোটখাটো বিষয়গুলোই এখন বহু সুখী পরিবার ভাঙার মূল অনুঘটক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কাউন্সেলিং সেন্টারের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভোজপুরের সুনিতার ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিয়ের মাত্র দুই দিন পরই তিনি শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে হাজির হন। শ্বশুরবাড়িতে তার ওপর ঘোমটা পরার চরম মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। ব্যক্তিগত স্বাধীনতার এই হস্তক্ষেপ মেনে নিতে না পেরে সুনিতা শর্ত দিয়েছিলেন, “যদি আমাকে সারাক্ষণ ঘোমটা দিয়ে থাকতে হয়, তবে আমার স্বামীকেও দিনরাত শেরওয়ানি পরে থাকতে হবে।” দীর্ঘ কাউন্সেলিংয়ের পরেও কেউ কোনো ছাড় দিতে রাজি না হওয়ায়, শেষমেশ মামলাটি আদালতে গড়ায়।
পোশাক নিয়ে বিতর্কের এখানেই শেষ নয়। আর এক নববিবাহিতা অভিযোগ করেন, বিয়ের আগে চাকরিজীবী থাকা অবস্থায় তিনি জিন্স-টি-শার্ট পরতেন। কিন্তু শ্বশুরবাড়িতে আসার পর চব্বিশ ঘণ্টা শাড়ি পরা বাধ্যতামূলক করা হয়। এমনকি তাকে জিন্স পরার জন্য মানসিকভাবে হেনস্থাও করা হয়। সৌভাগ্যবশত, কাউন্সেলরদের হস্তক্ষেপে এই দম্পতি শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হন।
সোশ্যাল মিডিয়ার মায়াজালও দাম্পত্য জীবনে বিষ ঢালছে। এক স্বামী অভিযোগ করেছেন, তার স্ত্রী সারা দিন ইনস্টাগ্রামে রিল তৈরিতে ব্যস্ত থাকেন, যার ফলে তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও পারিবারিক শান্তি বিপন্ন। এছাড়া, সারাক্ষণ বাবা-মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলা নিয়েও দম্পতির মধ্যে বিবাদ চরমে পৌঁছায়। যদিও এক বছরের সন্তানের কথা ভেবে কাউন্সেলররা দম্পতিটিকে পুনরায় সংহত করতে পেরেছেন।
বসুন্ধরার ঘটনাটি আরও গভীর জীবনযাত্রার সংকটকে তুলে ধরে। দুই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার দম্পতি বিয়ের দেড় বছরের মাথায় বিচ্ছেদের পথে হেঁটেছেন। কারণটি ছিল অদ্ভুত—স্বামীর অগোছালো জীবনযাপন বনাম স্ত্রীর কঠোর শৃঙ্খলার আকাঙ্ক্ষা। জীবনযাত্রার এই সামান্য অসঙ্গতিই তাদের সম্পর্কের দূরত্ব এত বাড়িয়ে দিয়েছিল যে কাউন্সেলিংও ব্যর্থ হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আজকের প্রজন্মের মধ্যে অসহিষ্ণুতা এবং নিজের শর্তে জীবন কাটানোর জেদ প্রবল। ছোটখাটো বিষয়ে ছাড় না দেওয়ার মানসিকতা পারিবারিক শান্তিকে বিঘ্নিত করছে। কাউন্সেলররা বলছেন, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিবাহবিচ্ছেদের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানের ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত স্পেস এবং যৌথ সংসারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।





