ভারতের টেলিকম জগতের সম্রাট রিলায়েন্স জিও-র বহু প্রতীক্ষিত আইপিও (IPO) নিয়ে বাজারে এক বড়সড় তোলপাড় শুরু হয়েছে। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ তাদের ডিজিটাল উইং ‘জিও প্ল্যাটফর্মস’-এর তালিকাভুক্তির পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে চলেছে। সূত্রের খবর, আগে যেখানে ‘অফার ফর সেল’ (OFS)-এর মাধ্যমে শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা ছিল, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে দরাদরি আর সাধারণ মানুষের স্বার্থের কথা ভেবে মুকেশ আম্বানি এখন সম্পূর্ণ ‘ফ্রেশ ইস্যু’-র পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কেন এই হঠাৎ ভোলবদল? জানা গেছে, গুগল, মেটা-র মতো বড় বিনিয়োগকারীরা চেয়েছিলেন শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ স্তরে রেখে আইপিও আনতে। কিন্তু রিলায়েন্সের থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক মনে করছে, অতিরিক্ত দাম রাখলে লিস্টিং-এর দিন শেয়ারের দর পড়ে যেতে পারে, যা খুচরা বিনিয়োগকারীদের জন্য হবে এক বড় ধাক্কা। মুকেশ আম্বানির কাছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা সবার আগে। তাই তিনি ঠিক করেছেন, বাজারই শেয়ারের আসল দাম ঠিক করুক। পিই (PE) বিনিয়োগকারীরা চাইলে পরে খোলা বাজারে নিজেদের শেয়ার বিক্রি করতে পারবেন।
এই ‘ফ্রেশ ইস্যু’-র মাধ্যমে যে বিপুল পরিমাণ টাকা আসবে, তা সরাসরি কোম্পানির ঘরে যাবে। খবর অনুযায়ী, সংগৃহীত অর্থের মধ্যে প্রায় ২৫,০০০ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা হবে এবং বাকিটা ৫জি পরিকাঠামো ও এআই (AI) প্রযুক্তির প্রসারে খরচ করা হবে। এর ফলে জিও-তে রিলায়েন্সের বর্তমান ৬৭ শতাংশ অংশীদারিত্ব কিছুটা কমলেও কোম্পানির আর্থিক ভিত আরও মজবুত হবে।
সব ঠিক থাকলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই সেবি-র (SEBI) কাছে খসড়া জমা দিতে পারে জিও। সেক্ষেত্রে জুলাই মাস নাগাদ বাজারে আসতে পারে এই মেগা আইপিও। ২০২০ সালে বিশ্বের তাবড় ১৩টি সংস্থার থেকে ১.৫ লক্ষ কোটি টাকা তুলে জিও যে জয়যাত্রা শুরু করেছিল, আইপিও-র এই নতুন মোড় তাকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।





