জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলা বাতিল নয়! রজনীকান্তের স্ত্রী লতা বিপাকে, বিচার শুরুর নির্দেশ আদালতের

বেঙ্গালুরু: তামিল সুপারস্টার রজনীকান্তের স্ত্রী লতা রজনীকান্তের একটি আবেদন বুধবার খারিজ করে দিয়েছে বেঙ্গালুরুর একটি আদালত। ২০১৪ সালের তামিল ছবি ‘কোচাডাইয়ান’-এর আর্থিক ক্ষতি সংক্রান্ত মামলায় লতার বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার যে অভিযোগ আনা হয়েছিল, তা খারিজ করার জন্য তিনি আদালতে আবেদন করেছিলেন।

জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জ্য়োতি শান্তাপ্পা কালে, লতা রজনীকান্তের অভিযোগ বাতিলের আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, মামলাটি নিয়ে বিচারকাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রাথমিক সাক্ষ্যপ্রমাণ যথেষ্ট পরিমাণে রয়েছে।

‘আইনি টাকা এড়াতে লতা নিজেই করেছেন প্রতারণা’
আদালতের আদেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, অভিযোগগুলি মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য লতা কোনো গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যপ্রমাণ হাজির করতে পারেননি। আদালত জানায়, “এটা প্রমাণিত যে, অভিযুক্ত (লতা) আইনি পাওনা এড়াতে সমস্ত রকম জালিয়াতি ও মিথ্যাচার করেছেন। চিঠির একমাত্র সুবিধাভোগী তিনিই— এই তথ্যই ফৌজদারি দায় চাপানোর জন্য যথেষ্ট।”

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ‘কোচাডাইয়ান’ ছবির প্রযোজনা সংস্থা মিডিয়া ওয়ান গ্লোবাল এন্টারটেইনমেন্ট এবং বিজ্ঞাপনী সংস্থা অ্যাড ব্যুরো অ্যাডভার্টাইজিং প্রাইভেট লিমিটেডের মধ্যে একটি আর্থিক বিরোধ থেকে। রজনীকান্তের মেয়ে সৌন্দর্য্য রজনীকান্ত ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন।

১০ কোটি টাকার বিতর্কে ভুয়ো লেটারহেড ব্যবহারের অভিযোগ
জানা যায়, বিজ্ঞাপনী সংস্থাটি ছবিটিতে প্রায় ১০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিল। ছবিটি প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় প্রযোজনা সংস্থার পক্ষে ব্যক্তিগত গ্যারান্টি দিয়েছিলেন লতা রজনীকান্ত। কিন্তু পরে টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে অ্যাড ব্যুরো।

এরপর লতা রজনীকান্ত ২০১৪ সালে বেঙ্গালুরু সিটি সিভিল অ্যান্ড সেশনস কোর্টে একটি নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন, যাতে মিডিয়া তাঁর সম্পর্কে কোনো খবর প্রকাশ না করে। এই নিষেধাজ্ঞার অর্ডার পাওয়ার পরই বিতর্ক শুরু হয়। অ্যাড ব্যুরো অ্যাডভার্টাইজিং একটি ব্যক্তিগত অভিযোগ দায়ের করে জানায়, লতা রজনীকান্ত এই নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার জন্য ‘পাবলিশার্স অ্যান্ড ব্রডকাস্টার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া, প্রেস ক্লাব, বেঙ্গালুরু’ নামে একটি অ-বিদ্যমান সংস্থার ভুয়ো লেটারহেড ব্যবহার করেছিলেন।

লতা রজনীকান্ত দাবি করেছিলেন, এটি কেবলই টাকা-পয়সা সংক্রান্ত একটি দেওয়ানি বিবাদ এবং তিনি কোনো নথি জাল করেননি, তাই মামলাটি খারিজ করা উচিত। তবে আদালত সেই আবেদন খারিজ করে পুরো বিচার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় দিয়েছে।

এই আদেশের ফলে, ভারতীয় দণ্ডবিধির অধীনে জালিয়াতি, প্রতারণা এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগে আগামী ১১ নভেম্বর থেকে লতা রজনীকান্তের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হবে।

রজনীকান্তের মতো হাই-প্রোফাইল তারকার স্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগের বিচার শুরু হলে, তার প্রভাব দক্ষিণে কতটা পড়তে পারে বলে আপনার মনে হয়?

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy