জামাইবাবুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত কথা বলা—এই ‘অপরাধে’ ১৩ বছরের কিশোরী বোনকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ উঠল নিজের দাদার বিরুদ্ধে। ঝাড়খণ্ডের রাঁচির রাতু থানার ঝখরাতাঁড় গ্রামে ঘটে যাওয়া এই পৈশাচিক ঘটনাটি দীর্ঘ সময় ধামাচাপা থাকলেও, সম্প্রতি পুলিশের হস্তক্ষেপে আসল সত্য প্রকাশ্যে এসেছে। ঘটনায় অভিযুক্ত দাদা রাহুল পাঠক এবং তাঁর বাবা সুবোধ পাঠককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত ও খুনের কারণ: পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ মার্চ এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। ধৃত রাহুল পাঠক পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে যে, তার বোন কেন নিয়মিত জামাইবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ রাখত এবং ফোনে কথা বলত, তা নিয়ে সে তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছিল। ঘটনার দিন এই বিষয় নিয়ে ভাই-বোনের মধ্যে ব্যাপক ঝগড়া হয়। রাগের মাথায় রাহুল তার বোনকে গলা টিপে খুন করে।
প্রমাণ লোপাটের ভয়ংকর ছক: খুনের পর কিশোরীর বাবা সুবোধ পাঠক এক পরিচিত চিকিৎসককে বাড়িতে ডাকেন। ওই চিকিৎসক কিশোরীকে মৃত ঘোষণা করে পরিবারকে পরামর্শ দেন দ্রুত দেহটি পুড়িয়ে ফেলার। পুলিশের দাবি, অপরাধ ঢাকতে তড়িঘড়ি দেহটি বিহারের গয়ায় নিয়ে গিয়ে দাহ করা হয়। ঘটনার ২০ দিন পর গত ২ এপ্রিল ওই বাড়িতে শ্রাদ্ধের অনুষ্ঠান হতে দেখে গ্রামবাসীদের সন্দেহ হয়। তাঁদের কাছ থেকেই খবর পেয়ে তদন্তে নামে পুলিশ।
বিস্ফোরক তথ্য ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট: তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মৃত কিশোরীটি সুবোধ দম্পতির নিজের সন্তান ছিল না। প্রায় আট বছর আগে বিহার থেকে তাকে দত্তক নিয়েছিলেন তাঁরা। তবে রাহুল প্রথম থেকেই তার এই পালিতা বোনকে সহ্য করতে পারত না। এমনকি ওই কিশোরীর জন্য বাড়িতে আলাদা উনুনে রান্না হতো বলে জানা গেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি: রাঁচি গ্রামীণ এলাকার পুলিশ সুপার প্রবীণ পুষ্কর জানিয়েছেন, মৃতদেহ বহনের কাজে ব্যবহৃত অ্যাম্বুল্যান্স চালকের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্ত বাবা ও ছেলে বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছেন। তবে ঘটনার পর থেকে পলাতক সেই চিকিৎসকের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ, যিনি প্রমাণ লোপাটে সহায়তা করেছিলেন।
সামাজিক সম্মান ও ব্যক্তিগত রাগের বশবর্তী হয়ে নিজের বোনকে এভাবে শেষ করে দেওয়ার ঘটনায় শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমেছে এলাকায়।





