জাত-ধর্মের দেয়াল ভেঙে জোট! কংগ্রেসের নতুন সামাজিক কৌশলে কি কপালে চিন্তার ভাঁজ বিজেপির?

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কংগ্রেস শুরু করেছে এক নতুন সামাজিক প্রকৌশল। দলের লক্ষ্য—তফসিলি জাতি (এসসি) এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে এক মঞ্চে এনে এক শক্তিশালী রাজনৈতিক ও আদর্শিক জোট তৈরি করা। কংগ্রেসের দাবি, বর্তমান শাসনামলে এই দুই গোষ্ঠীই সবচেয়ে বেশি প্রান্তিক ও বঞ্চিত। এই ক্ষোভকে হাতিয়ার করেই আগামীকাল ৬ জুন দিল্লিতে এক বিশাল যৌথ সম্মেলনের আয়োজন করছে দলটি।

এই সম্মেলনে দলীয় নেতাদের পাশাপাশি সমাজকর্মী, বুদ্ধিজীবী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে। কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশলবিদদের মতে, উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব, উত্তরাখণ্ড, গোয়া ও মণিপুরের মতো রাজ্যগুলিতে দলিত ও সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ। এই দুই শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারলে ক্ষমতায় আসার পথ অনেকটাই সুগম হবে।

রাহুল গান্ধীর ‘সংবিধান বাঁচাও’ অভিযানের পর থেকে দলিত সম্প্রদায়ের মধ্যে কংগ্রেসের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। সম্প্রতি সংখ্যালঘু নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে রাহুল সরাসরি অভিযোগ তুলে ধরার বার্তা দিয়েছেন। কংগ্রেসের লক্ষ্য কেবল নির্বাচনী জোট নয়, বরং বেকারত্ব ও মুদ্রাস্ফীতির মতো মৌলিক ইস্যুগুলোকে সামনে এনে মেরুকরণের রাজনীতিকে চ্যালেঞ্জ করা। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে দলিত-মুসলিম জোটের সাথে পরবর্তী ধাপে অনগ্রসর শ্রেণী ও দরিদ্র উচ্চবর্ণকে অন্তর্ভুক্ত করার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে দলের। এখন দেখার বিষয়, এই ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ বাস্তব ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy