জমি কেলেঙ্কারিতে সোজা সিজিও কমপ্লেক্সে ডাক! কসবার ‘ত্রাস’ সোনা পাপ্পুর জন্য কি বিপদ বাড়ছে নেপথ্যের রাঘববোয়ালদের?

ভোটমুখী বাংলায় অপরাধ দমনে বড়সড় পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। দক্ষিণ কলকাতার কসবা ও বালিগঞ্জ এলাকার ত্রাস হিসেবে পরিচিত বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’-কে এবার জমি কেলেঙ্কারি ও বেআইনি নির্মাণের মামলায় তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। অন্যদিকে, সক্রিয় অপরাধীদের তালিকা থেকে এই কুখ্যাত দুষ্কৃতীর নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে কসবা থানার ওসি বিশ্বজিৎ দেবনাথকে তৎক্ষণাৎ সাসপেন্ড করল কমিশন।

ইডির নজরে সোনা পাপ্পু: জমি দখল, প্রোমোটিং সিন্ডিকেট এবং কোটি কোটি টাকার তোলাবাজির অভিযোগে দীর্ঘকাল ধরেই পুলিশের নজরে ছিলেন সোনা পাপ্পু। সম্প্রতি তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ইডি প্রায় ২ কোটি টাকা নগদ ও বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না উদ্ধার করেছে। ইডি সূত্রের দাবি, এই বিপুল পরিমাণ টাকা আসলে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই সংগ্রহ করা হয়েছিল। আগামী ৮ এপ্রিল সোনা পাপ্পুকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন সাসপেন্ড হলেন কসবার ওসি? নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, ভোটের আগে এলাকার সমস্ত সক্রিয় ও দাগী অপরাধীদের তালিকা তৈরি করতে হবে। কিন্তু কসবা থানার ওসির পাঠানো তালিকায় সোনা পাপ্পুর মতো কুখ্যাত অপরাধীর নাম ছিল না! অভিযোগ উঠেছে, শাসক ঘনিষ্ঠ এই দুষ্কৃতীকে আড়াল করতেই ওসি এই মারাত্মক গাফিলতি করেছেন। এর পরেই কমিশন কড়া অবস্থান নিয়ে ওসি বিশ্বজিৎ দেবনাথকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেয়।

কাকুলিয়া কাণ্ড ও সোনা পাপ্পু: কিছুদিন আগেই দক্ষিণ কলকাতার কাঁকুলিয়া এলাকায় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক বোমাবাজি ও সংঘর্ষের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছিল সোনা পাপ্পুর নাম। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে সে পলাতক থাকলেও পুলিশ তাঁকে ধরতে পারেনি বলে অভিযোগ। উল্টে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে তাঁকে প্রভাবশালী নেতাদের সাথে দেখা যেত।

প্রভাবশালী যোগের জল্পনা: এই জমি কেলেঙ্কারি মামলায় ইতিমধ্যেই দক্ষিণ কলকাতার এক হেভিওয়েট বিধায়ককেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি। সোনা পাপ্পুর মুখ খুললে আরও অনেক ‘বড় নাম’ সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে তদন্তকারী সংস্থা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy