বর্তমান সমাজে পারিবারিক সম্পর্কের সমীকরণ এবং আইনি বাধ্যবাধকতা নিয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, মৃত ছেলের স্ত্রীর (পুত্রবধূ) কাছ থেকে ভরণপোষণ দাবি করার কোনো আইনি অধিকার শ্বশুর-শাশুড়ির নেই। হিন্দু দত্তক ও ভরণপোষণ আইন (Hindu Adoptions and Maintenance Act, 1956) অনুযায়ী, পুত্রবধূ তাঁর শ্বশুর-শাশুড়িকে আর্থিক সহায়তা দিতে আইনত বাধ্য নন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: মামলাটি শুরু হয়েছিল এক বৃদ্ধ দম্পতির আবেদনের ভিত্তিতে। ২০১৬ সালে তাঁদের ছেলের বিয়ে হয়। পুত্রবধূ পেশায় একজন পুলিশ কনস্টেবল। ২০২১ সালে হঠাৎই তাঁদের ছেলের মৃত্যু হলে পরিবারটি আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে। এরপরই ওই দম্পতি তাঁদের পুত্রবধূর কাছ থেকে মাসিক ভরণপোষণের দাবি জানিয়ে ফ্যামিলি কোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁদের যুক্তি ছিল, পুত্রবধূ সরকারি চাকরি করেন এবং তাঁর আয় যথেষ্ট ভালো, তাই নৈতিকভাবে তাঁর উচিত বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ির দায়িত্ব নেওয়া।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ: ফ্যামিলি কোর্ট বৃদ্ধ দম্পতির আবেদন খারিজ করে দিলে তাঁরা হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন। এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতিরা মামলার শুনানিতে জানান, নৈতিকতা এবং আইনের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। আদালত বলে, “হিন্দু আইন অনুযায়ী, একজন পুত্রবধূকে তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ির ভরণপোষণ করতে বাধ্য করা যায় না, যতক্ষণ না তিনি তাঁর স্বামীর পৈতৃক সম্পত্তি থেকে কোনো ভাগ পাচ্ছেন বা সেই সম্পত্তির দখল পাচ্ছেন।”
আদালত আরও যোগ করে যে, ধারা ১৯ (Section 19) অনুযায়ী ভরণপোষণের দায়ভার মূলত স্বামীর ওপর বর্তায়। স্বামীর মৃত্যুর পর যদি স্ত্রী তাঁর নিজের উপার্জনে জীবনধারণ করেন এবং স্বামীর কোনো সম্পত্তিতে তাঁর অধিকার না থাকে, তবে তিনি শ্বশুরবাড়ির লোকেদের টাকা দিতে বাধ্য নন। এই রায়টি আগামী দিনে পারিবারিক বিবাদ এবং খোরপোশ সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে একটি বড় নজির হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।