রিলস বানানোর মরণনেশা আর বেপরোয়া গতির বলি হলেন দিল্লির ২৩ বছর বয়সী যুবক সাহিল ধনেশরা। গত ৩ ফেব্রুয়ারি দিল্লির দ্বারকায় অফিস যাওয়ার পথে এক নাবালকের স্করপিও-র ধাক্কায় প্রাণ হারান তিনি। এই ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোরের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন সাহিলের মা ইন্না মাকান। তাঁর সাফ অভিযোগ, এটি কোনও নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং একটি “পরিকল্পিত অপরাধ”।
ইন্না মাকান জানান, অভিযুক্ত কিশোর তার বোনকে নিয়ে স্করপিও চালিয়ে রিলস বানাতে বেরিয়েছিল। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, কিশোরটি উল্টো লেনে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে বাসের সামনে স্টান্ট করছিল। সাহিল যখন রাস্তা পার হওয়ার জন্য ডান দিকে তাকান, তখনই স্করপিওটি প্রচণ্ড গতিতে এসে তাঁর মোটরসাইকেলে ধাক্কা মারে। ধাক্কার তীব্রতা এতই ছিল যে স্করপিওটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আরও একটি ট্যাক্সিকে আঘাত করে। অথচ চালক ব্রেক কষার বিন্দুমাত্র চেষ্টা করেনি।
অভিযোগ উঠেছে, লাইসেন্সহীন ওই কিশোরের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার ট্রাফিক আইন ভাঙার রেকর্ড রয়েছে। সাহিলের মায়ের প্রশ্ন, কেন জেনেবুঝে ওই কিশোরের বাবা তার হাতে গাড়ি তুলে দিলেন? দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে আটক করে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের সামনে তোলা হলেও, দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার কারণে তাকে অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হয়েছে। শোকাতুর মা এখন শুধু একটাই বিচার চাইছেন— যাতে আর কোনও মায়ের কোল এভাবে রিলস আর বিনোদনের জন্য খালি না হয়।