চুঁচুড়ার এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের সামনে রোদে পোড়া ক্লান্ত মুখগুলোর ভিড়ে এক প্রবীণ ব্যক্তির উপস্থিতি সবাইকে চমকে দিল। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছেন ছেলের জন্য ‘যুব সাথী’ বা ‘যুবশ্রী’ প্রকল্পের ফর্ম সংগ্রহ করতে। কৌতূহলী সাংবাদিকরা কথা বলতেই উঠে এল এক যন্ত্রণাদায়ক সত্য— তাঁর ছেলে বর্তমানে গুয়াহাটি আইআইটি-তে (IIT Guwahati) পড়াশোনা করছে। অর্থাৎ, একদিকে দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র হিসেবে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, অন্যদিকে বর্তমানের অনিশ্চয়তায় ১৫০০ টাকার সরকারি ভাতার জন্য বাবার এই হাহাকার।
চুঁচুড়ার এই দীর্ঘ লাইন যেন এক দ্বৈত বাস্তবতার ইঙ্গিত। একদিকে উচ্চশিক্ষার সিঁড়ি বেয়ে ওঠা স্বপ্নবাজ এক যুবসমাজ, যাদের লক্ষ্য আকাশছোঁয়া। কিন্তু অন্য পিঠেই রয়েছে রাজ্যে কর্মসংস্থানের এক ধূসর ছবি। যে যুবকের মেধা আইআইটির দরজা খুলে দিয়েছে, তাঁর পরিবারকেও হয়তো আজ আর্থিক অনটনের মুখে দাঁড়িয়ে সরকারি ভাতার লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।
লাইনের দাঁড়িয়ে থাকা অনেকের মতেই, উচ্চশিক্ষা এখন সম্মানের হলেও পকেটের টান মেটাতে পারছে না। তাই হাজার হাজার টাকার টিউশন বা আইআইটি ফি-র মাঝে এই সামান্য সরকারি সাহায্যটুকুও মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে বড় অবলম্বন। চুঁচুড়ার এই লাইন আজ কেবল একটি প্রকল্পের ভিড় নয়, বরং বাংলার শিক্ষিত মধ্যবিত্তের স্বপ্ন এবং সংগ্রামের এক জীবন্ত কোলাজ।