ছিঃ! দাদুর বয়সী লোকের হাতে শ্লীলতাহানি? ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার মৌনি রায়

গ্ল্যামার দুনিয়ার জাঁকজমকের আড়ালে যে কতটা অন্ধকার লুকিয়ে আছে, তা আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল। এবার ভিনরাজ্যে গিয়ে চরম শ্লীলতাহানি ও অশ্লীলতার শিকার হলেন বাঙালি অভিনেত্রী মৌনি রায়। হরিয়ানার কর্নালে একটি অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে গিয়ে রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করতেই নেটপাড়ায় নিন্দার ঝড় উঠেছে।

দাদুর বয়সী ব্যক্তির কুৎসিত আচরণ: মৌনি জানিয়েছেন, কর্নালে অনুষ্ঠানের শুরুতেই পরিস্থিতি বিগড়ে যায়। অভিনেত্রী লেখেন, “সেখানে দুজন বয়স্ক ব্যক্তি, যাঁদের দেখতে একদম দাদুর মতো, তাঁরা ছবি তোলার নাম করে আমার কাছে আসেন। অদ্ভূতভাবে ছবি তোলার সময় একজন আমার কোমরে হাত রাখেন। আমি যখন বিনীতভাবে হাত সরিয়ে নিতে বলি, তখন ওই ব্যক্তি উল্টে রেগে যান।” একজন প্রবীণ মানুষের কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করেননি বলেই আক্ষেপ প্রকাশ করেন মৌনি।

মঞ্চে দাঁড়িয়ে সহ্য করতে হলো অশ্লীলতা: মৌনির অভিযোগ অনুযায়ী, বিপত্তি সেখানেই থামেনি। মঞ্চে পারফর্ম করার সময় সামনের সারিতে থাকা দুই মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি ক্রমাগত তাঁকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি এবং কুরুচিকর মন্তব্য করতে থাকেন। মৌনি তাদের বারণ করলে তারা অভিনেত্রীর দিকে গোলাপ ফুল ছুড়তে শুরু করে। পরিস্থিতির চাপে এতটাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি যে, ভয়ে মঞ্চের মাঝখানে পিছিয়ে যান। তবুও পেশাদারিত্বের খাতিরে কোনোমতে নিজের নাচ শেষ করেন তিনি।

ভিডিও নিয়ে নোংরামি: শুধু ছোঁয়া বা অশ্লীল অঙ্গভঙ্গিই নয়, অভিযোগ উঠেছে অভিনেত্রীর বিকৃত ভিডিও রেকর্ড করারও। মৌনি দাবি করেন, “মঞ্চটি উঁচুতে ছিল, আর নিচ থেকে এক ব্যক্তি ক্যামেরা দিয়ে আমার আপত্তিকর অ্যাঙ্গেল থেকে ভিডিও করার চেষ্টা করছিল। কেউ তাকে আটকাতে গেলে সে গালিগালাজ শুরু করে।”

আয়োজকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই গোটা ঘটনায় আয়োজকরা পুরোপুরি নীরব ছিলেন। মৌনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমাকে বাঁচানোর জন্য বা ওই অসভ্য লোকেদের সরিয়ে দেওয়ার জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি। আমার যদি এই অবস্থা হয়, তবে নতুন যে মেয়েরা এই ইন্ডাস্ট্রিতে আসছে, তাদের নিরাপত্তা কোথায়?” মানসিকভাবে বিধ্বস্ত অভিনেত্রী প্রশ্ন তুলেছেন দেশের সংস্কৃতি ও নারী নিরাপত্তা নিয়ে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy