রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় আর্থিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটছে বর্তমান সরকার। রাজ্যের সমস্ত সরকারি এবং সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তাদের অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দফতর। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে শুভেন্দু প্রশাসন।
মূলত শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র সংসদের নামে চলা আর্থিক অনিয়ম ও ফান্ডের স্বচ্ছতাকে নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। উচ্চশিক্ষা দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে রাজ্যের কোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত ছাত্র সংসদ বা ইউনিয়ন নেই। দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত থাকায় বিধি অনুযায়ী ছাত্র সংসদ পরিচালনার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। অথচ, নিয়ম বহির্ভূতভাবে এতদিন ধরে পড়ুয়াদের কাছ থেকে ‘স্টুডেন্ট ইউনিয়ন ফি’ বা ছাত্র সংসদ ফি আদায় করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
এই অসংগতি দূর করতে অবিলম্বে সমস্ত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের কাছ থেকে ‘স্টুডেন্ট ইউনিয়ন ফি’ নেওয়া পুরোপুরি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দফতরের পক্ষ থেকে কেবল নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত হওয়া হয়নি, বরং বিগত বছরগুলিতে ইউনিয়ন ফান্ডের নামে ঠিক কত টাকা তোলা হয়েছে এবং তা কোন কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে, তার বিশদ খতিয়ান বা অডিট রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, কলেজ ইউনিয়নগুলোর ফান্ড পরিচালনায় দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। ছাত্র সংসদের নামে সংগৃহীত অর্থের যথাযথ হিসাব না থাকায় এটি একটি বড়সড় আর্থিক কেলেঙ্কারিতে পরিণত হয়েছিল। সরকার এখন সেই কালোটাকা ও দুর্নীতির উৎস বন্ধ করতে তৎপর।
এদিকে, প্রশাসনের এই কড়া নির্দেশিকা পাওয়ার পর থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সব আর্থিক নথি ও অডিট রিপোর্ট তৈরি করতে এখন ব্যস্ত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ। শিক্ষানুরাগীদের একাংশ মনে করছেন, নির্বাচনের অভাবে ইউনিয়ন ফান্ড কার্যত ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছিল, যা এবার বন্ধ হবে। সামগ্রিক এই পদক্ষেপকে উচ্চশিক্ষার আঙিনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার একটি ইতিবাচক প্রয়াস হিসেবেই দেখছে সচেতন সমাজ। এখন দেখার বিষয়, ৩০ দিনের মধ্যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই নির্দেশ কতটা সততার সঙ্গে পালন করতে পারে।





