চোর সন্দেহে তালিবানি বর্বরতা! ৪ শিশুকে বেল্ট দিয়ে বেধড়ক মার বিজেপি নেতার, রণক্ষেত্র এলাকা

উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত সংলগ্ন এলাকায় এক শিউরে ওঠা শিশু নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। চুরির অপবাদ দিয়ে চারজন নাবালককে ঘরে আটকে রেখে বেল্ট দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করার অভিযোগ উঠল এক স্থানীয় বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনার ভিডিও (যা ডেইলিয়ান্ট যাচাই করেনি) ভাইরাল হতেই এলাকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযুক্ত বিজেপি নেতার শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে শিশু সুরক্ষা কমিশন।

স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই বিজেপি নেতা অভিযোগ করেন যে তাঁর বাড়ি থেকে কিছু মূল্যবান সামগ্রী চুরি গিয়েছে। এলাকার চার শিশুকে এই চুরির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনি তুলে নিয়ে যান। এরপর তাদের একটি ঘরে দীর্ঘক্ষণ বন্দি করে রাখা হয় বলে অভিযোগ। সেখানে কোনও বিচার বা পুলিশি হস্তক্ষেপ ছাড়াই ওই নেতা নিজের হাতে আইন তুলে নেন। অভিযোগ, শিশুদের পোশাক খুলে তাঁদের কোমরের বেল্ট দিয়ে পিঠ এবং পায়ে ক্রমাগত আঘাত করা হয়। শিশুদের আর্তনাদে এলাকা ভারি হয়ে উঠলেও প্রথম দিকে ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি।

পরবর্তীতে শিশুদের বাড়ির লোকজন এবং প্রতিবেশীরা একজোট হয়ে প্রতিবাদ জানালে ওই নেতা সেখান থেকে সরে যান। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া চার শিশুর মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নির্যাতনের শিকার এক শিশুর অভিভাবক কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “ভুল করলে পুলিশকে জানাতে পারত, কিন্তু এভাবে পশুর মতো মারা কীসের বিচার? ও বিজেপি করে বলে কি সব অপরাধ মাফ?”

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। যদিও ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ওই বিজেপি নেতা পলাতক। পুলিশ তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনায় কড়া সমালোচনা করে জানিয়েছে, “বিজেপির এটাই আসল রূপ। শিশুদের ওপরও এরা রাজনীতি আর দাদাগিরি করতে ছাড়ে না।” অন্যদিকে, বিজেপি জেলা নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন আইনের পথে চলবে; তবে এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। ঘটনাটি কেন্দ্র করে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy