চার দশকের আনুগত্যের এই পুরস্কার? মুখ্য সচেতকের পদ হারিয়েই চরম অভিমানী কাকলি, মমতাকে কী বার্তা দিলেন সাংসদ?

রাজনীতির ময়দানে আনুগত্য আর ত্যাগের শেষ মূল্য ঠিক কী? লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের মুখ্য সচেতকের (Chief Whip) পদ থেকে আকস্মিক অপসারণের পর, এবার এই বড় প্রশ্নটাই যেন তুলে দিলেন বারাসতের প্রবীণ সাংসদ ড. কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বৃহস্পতিবার তৃণমূলের সংসদীয় দলের পক্ষ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। আর এই সিদ্ধান্তের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এক অত্যন্ত আবেগঘন এবং অভিমানী পোস্ট করেছেন এই প্রবীণ নেত্রী, যা ঘিরে এই মুহূর্তে তোলপাড় দলের অন্দরে তথা গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে।

তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন তো বটেই, তারও আগে থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবে পরিচিত কাকলি ঘোষ দস্তিদার। দলের দুঃসময়েও নেত্রীর পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন তিনি। কিন্তু ২০২৬ সালের এই মে মাসে হঠাৎ করেই সংসদের এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত একেবারেই মেনে নিতে পারছেন না নেত্রীর অনুগামীরা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ঠিক কী লিখেছেন অভিমানী সাংসদ?

পদ খোয়ানোর পর নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দলের প্রতি নিজের অবিচল আনুগত্য এবং লড়াইয়ের কথা স্মরণ করিয়েছেন কাকলি। তিনি লেখেন, গত ৪৩ বছর ধরে তিনি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন এবং নিজের জীবনের সেরা সময় ও শ্রম দলের জন্য উৎসর্গ করেছেন। কোনও রকম লোভ বা মোহ ছাড়াই তিনি দলের কাজ করে গেছেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে এই আকস্মিক রদবদল যে তাঁর মনের ওপর গভীর আঘাত হেনেছে, তা তাঁর পোস্টের ছত্রে ছত্রে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

কেন এই আকস্মিক অপসারণ?

তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের দাবি, লোকসভায় দলের কৌশলকে আরও বেশি গতিশীল এবং তরুণ প্রজন্মের ওপর নির্ভর করতেই এই সাংগঠনিক রদবদল করা হয়েছে। এটি একটি রুটিন প্রক্রিয়া মাত্র। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দলের অন্দরে পুরনো ও নতুন প্রজন্মের যে সুপ্ত ক্ষমতার লড়াই চলছে, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই পদচ্যুতি তারই একটি সুদূরপ্রসারী অংশ হতে পারে।

বারাসতের সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক মহলে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এক মস্ত বড় পরিচিতি রয়েছে। এই মেগা রদবদলের পর তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্বের ফাটল আরও কতটা চওড়া হয়, নাকি খোদ সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে হস্তক্ষেপ করে এই প্রবীণ নেত্রীর মানভঞ্জন করেন, এখন সেটাই দেখার। তবে এই অভিমানী পোস্টের পর দিল্লির সাউথ ব্লক থেকে কলকাতার কালীঘাট পর্যন্ত যে গুঞ্জন শুরু হয়েছে, তা সহজে থামার নয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy