অসমের নির্বাচনী রণক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে এক অন্য মেজাজে ধরা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ডিব্রুগড়ের দিগন্ত বিস্তৃত চা-বাগানে শ্রমিকদের সঙ্গে মিশে গিয়ে নিজের হাতে চা-পাতা তুলতে দেখা গেল তাঁকে। লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রীর এই ‘টি-গার্ডেন ডিপ্লোম্যাসি’ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। চা-শ্রমিকদের সমস্যার কথা শোনার পাশাপাশি তাঁদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
ডিব্রুগড়ের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার নেতৃত্বাধীন সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন মোদী। তিনি বলেন, “অসমের সার্বিক উন্নয়নে হিমন্তের সরকার যে গতিতে কাজ করছে, তা প্রশংসনীয়।” বিশেষ করে পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং জনজাতি কল্যাণে রাজ্য সরকারের সক্রিয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তবে ভাষণের মূল আকর্ষণ ছিল অসমের দীর্ঘদিনের অভিশাপ ‘বন্যা পরিস্থিতি’ নিয়ে তাঁর বড় ঘোষণা। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগামী দিনে অসমে বন্যা নিয়ন্ত্রণকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে বিজেপি সরকার। আধুনিক প্রযুক্তি এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ব্রহ্মপুত্রের জলধারাকে নিয়ন্ত্রণে এনে স্থায়ী সমাধানের পথে হাঁটবে দিল্লি ও দিশপুর।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অসমের চা-বলয়ের ভোট বরাবরই নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে। ডিব্রুগড়ে মোদীর এই জনসংযোগ আদতে সেই ভোটব্যাঙ্ককেই সুসংহত করার কৌশল। প্রধানমন্ত্রী এদিন কংগ্রেসকেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে অসমকে কেবল অবহেলার শিকার হতে হয়েছে, কিন্তু ডাবল ইঞ্জিন সরকার আসার পর থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতের এই রাজ্য উন্নয়নের মূল স্রোতে ফিরেছে। সব মিলিয়ে, চা-বাগানে পাতা তোলা থেকে শুরু করে হিমন্তের প্রশংসা— মোদীর অসম সফর রাজ্যের নির্বাচনী আবহে নতুন মাত্রা যোগ করল।





