বাঙালির হেঁশেলে আলু ছাড়া একদিনও চলে না। কিন্তু সম্প্রতি বাজারের আলু নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ‘চন্দ্রমুখী’ আলুর নামে অন্য জাতের নিম্নমানের আলু বেশি দামে বিক্রি করা বা আলুর উজ্জ্বলতা বাড়াতে বিষাক্ত রঙ ও রাসায়নিক ব্যবহারের খবর সামনে আসছে। আপনি যে আলু খাচ্ছেন তা নির্ভেজাল তো? জেনে নিন পেশাদার সাংবাদিকদের সংগৃহীত কিছু সহজ উপায়:
১. রঙের পরীক্ষা: অনেক সময় আলুর উপরে লালচে মাটি লাগিয়ে ‘লাল আলু’ বা নতুন আলু হিসেবে চালানো হয়। বাড়িতে এনে আলু ধোয়ার সময় যদি দেখেন জল অস্বাভাবিক লাল হয়ে যাচ্ছে বা আলুর গায়ের মাটি সহজেই পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে, তবে বুঝবেন এতে কৃত্রিম রঙ মেশানো হয়েছে। আসল আলুর গায়ের মাটি ধুতে একটু সময় লাগে।
২. চন্দ্রমুখী বনাম হেমাঙ্গিনী: বাজারে এখন চন্দ্রমুখী আলুর আড়ালে ‘হেমাঙ্গিনী’ বা ‘হিমালয়ান’ আলু বিক্রি হচ্ছে। চেনার উপায় হলো— চন্দ্রমুখী আলু কাটার পর ভিতরটা হালকা ঘিয়ে বা ঘিয়ে-সাদা রঙের হয়। কিন্তু হেমাঙ্গিনী আলুর ভিতরটা ধবধবে সাদা। এছাড়া চন্দ্রমুখী খুব তাড়াতাড়ি সেদ্ধ হয়, কিন্তু ভেজাল মেশানো বা অন্য জাতের আলু সেদ্ধ হতে অনেক সময় নেয় এবং স্বাদেও খুব একটা ভালো হয় না।
৩. ঘর্ষণ পরীক্ষা: আলু কেনার সময় নখ দিয়ে একটু খোসা ছাড়িয়ে দেখুন। যদি দেখেন খোসা খুব পাতলা এবং সহজেই উঠে আসছে, তবে সেটি টাটকা আলু। কিন্তু যদি খোসা প্লাস্টিকের মতো শক্ত মনে হয় বা ঘষলে কৃত্রিম গন্ধ বের হয়, তবে তাতে রাসায়নিক থাকতে পারে।
৪. জলের পরীক্ষা: একটি বালতি জলে আলুগুলো ফেলে দেখুন। সাধারণত ঘনত্বের কারণে ভালো আলু জলের নিচে ডুবে যায়। কিন্তু যদি দেখেন আলুগুলো জলের উপরে ভেসে থাকছে, তবে বুঝতে হবে সেগুলো পুরনো বা কোল্ড স্টোরেজে রাখা খারাপ আলু, যা রাসায়নিক দিয়ে তাজা দেখানো হচ্ছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি: পুষ্টিবিদদের মতে, আলুতে মেশানো কৃত্রিম রঙ (যেমন মেটানিল ইয়েলো বা রোডামাইন বি) শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটি দীর্ঘমেয়াদে লিভার এবং কিডনির ক্ষতি করতে পারে। তাই সব সময় মাটি মাখা নোংরা আলু কেনাই নিরাপদ, কারণ খুব পরিষ্কার ও উজ্জ্বল আলু রাসায়নিকের কারসাজি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।