চণ্ডীপুরে ফিরল চন্দ্রনাথের নিথর দেহ, প্রিয় ছায়াসঙ্গীকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন শুভেন্দু অধিকারী!

শুক্রবার এক অত্যন্ত শোকাতুর পরিবেশের সাক্ষী থাকল পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের আপ্তসহায়ক তথা ছায়াসঙ্গী চন্দ্রনাথ রথের নিথর দেহ এদিন তাঁর নিজ বাসভূমি চণ্ডীপুরে পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে গোটা এলাকা। প্রিয় মানুষটিকে শেষবার চোখের দেখা দেখতে চণ্ডীপুরের মোড়ে মোড়ে ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক কর্মীরা। প্রিয় পাত্রের মৃত্যুতে যে শোকের ছায়া অধিকার পরিবারে নেমে এসেছে, তার বহিঃপ্রকাশ ঘটল চণ্ডীপুরের এই শেষযাত্রায়।

এদিন চন্দ্রনাথ রথের মরদেহ যখন গ্রামে পৌঁছয়, তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন কাঁথির সাংসদ তথা শুভেন্দু অধিকারীর ভাই সৌমেন্দু অধিকারী। নিজের দাদাকে ছায়ার মতো আগলে রাখা মানুষটিকে হারিয়ে এদিন নিজেকে সামলাতে পারেননি সৌমেন্দু। চন্দ্রনাথের মরদেহে মালা দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। জনসমক্ষে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়া সাংসদকে দেখে উপস্থিত কেউই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা ও বিশ্বস্ত সহকর্মীকে হারানোর যন্ত্রণা এদিন স্পষ্ট ধরা পড়ছিল তাঁর চোখে-মুখে।

উল্লেখ্য, চন্দ্রনাথ রথ কেবল শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক ছিলেন না, বরং অধিকারী পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও ভরসার পাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর অকাল প্রয়াণ জেলার রাজনৈতিক মহলেও গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। চণ্ডীপুরের বাসিন্দাদের কথায়, চন্দ্রনাথবাবু সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতেন এবং যে কোনো প্রয়োজনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন।

এদিন তাঁর মরদেহে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করার পর সৌমেন্দু অধিকারী শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন যে, এই ক্ষতি অপূরণীয় এবং চন্দ্রনাথের অভাব তাঁরা প্রতিটি মুহূর্তে অনুভব করবেন। শেষযাত্রায় অংশ নিতে এদিন চণ্ডীপুর জুড়ে অগণিত মানুষের ভিড় উপচে পড়ে। প্রশাসনিক স্তরে এবং রাজনৈতিক কর্মীদের উপস্থিতিতে গান স্যালুট ও শেষ শ্রদ্ধার মাধ্যমে এদিন সম্পন্ন হয় চন্দ্রনাথ রথের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। গোটা চণ্ডীপুর গ্রাম এদিন ছিল স্তব্ধ, সাধারণ মানুষের প্রিয় ‘চন্দ্রদা’-র প্রয়াণে এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy