২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে গিয়েছে। আর ভোটের ঠিক মুখেই পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর থেকে বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য এক ঐতিহাসিক ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার রঘুনাথপুরের হাইভোল্টেজ জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এই এলাকাতেই গড়ে উঠতে চলেছে বিশাল শিল্প তালুক, যেখানে অন্তত দেড় লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। ঘরের খেয়ে, ঘরের কাছেই এই কাজ পাবেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এদিন রঘুনাথপুরের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি কর্মসংস্থানের রোডম্যাপ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “রঘুনাথপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোর নিয়ে আমরা অনেকদিন ধরে কাজ করছি। আমি আজ ঘোষণা করছি, এখানে যে বড় বড় কারখানাগুলো আসছে, তাতে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে দেড় লক্ষ লোকের চাকরি হবে। আপনাদের আর কাজের খোঁজে ভিন রাজ্যে যেতে হবে না।” মূলত ইস্পাত এবং সিমেন্ট শিল্পের ওপর ভিত্তি করেই এই নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
নির্বাচনের আগে মমতার এই ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। জঙ্গলমহলের ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে কর্মসংস্থানকেই প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করলেন তৃণমূল নেত্রী। বিরোধীরা যখন বেকারত্ব নিয়ে লাগাতার আক্রমণ শানাচ্ছে, তখন রঘুনাথপুরের মাটি থেকে এই ‘মেগা ঘোষণা’ করে পালটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন তিনি।
মমতা এদিন আরও জানান, শুধু বড় শিল্প নয়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কুটির শিল্পের ওপরেও জোর দিচ্ছে তাঁর সরকার। তিনি বলেন, “বাংলার ছেলেমেয়েরা বুদ্ধিমান, তারা কাজ জানে। আমরা শুধু সুযোগটা করে দিচ্ছি।” রঘুনাথপুরের এই প্রস্তাবিত শিল্পাঞ্চলটি উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের সংযোগকারী করিডোর হিসেবে কাজ করবে, যা ভবিষ্যতে আরও বিনিয়োগ টানবে বলে আশাবাদী রাজ্য সরকার। এদিনের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর উচ্ছ্বাসের ছবি ধরা পড়েছে স্থানীয় যুবক-যুবতীদের মধ্যে।