‘গ্ল্যামার ধরে এনে মাথায় বসাতে হবে, আর ফোনে পাওয়া যাবে না!’ সায়নীকে নিয়ে বিস্ফোরক কুণাল

তৃণমূল কংগ্রেসের যুব নেত্রী সায়নী ঘোষের হঠাৎ ‘অন্তর্ধান’ এবং তাঁর বিমানবন্দরের ছবি ঘিরে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। টুপি, মাস্ক ও সানগ্লাসে মুখ ঢেকে সায়নীর বিমানবন্দর থেকে দ্রুত প্রস্থান করার ঘটনাটি ভালোভাবে নেননি দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। এদিন তিনি সায়নীকে বেনজির ভাষায় আক্রমণ করে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন।

কুণাল ঘোষের বিস্ফোরক মন্তব্য: কুণাল ঘোষ সরাসরি তোপ দেগে বলেন, “সায়নী ঘোষের এয়ারপোর্টের একটা ছবি দেখলাম। দেখে মনে হচ্ছে করোনার সময়ের ছবি। এমন মুখ ঢেকে কেন বেরোচ্ছেন? হয় উনি বিপ্লবী, না হয় উনি দলে আছেন।” যুব তৃণমূলের সভাপতি পদ নিয়েও কুণাল ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “গ্ল্যামার দেখে কাউকে ধরে এনে দলের মাথায় বসাতে হবে, আর তারপর তাঁকে ফোনেও পাওয়া যাবে না—এটা চলতে পারে না।”

দলের অন্দরেই ক্ষোভ: কুণাল ঘোষের এই মন্তব্যের আগেই যুব তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সায়নীকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। দলের বড় একটি অংশ মনে করছে, নেত্রী হিসেবে বড় দায়িত্ব পাওয়ার পরও সায়নী যেভাবে গা ঢাকা দিয়ে আছেন, তা সংগঠনকে দুর্বল করছে। কুণাল বলেন, “যাঁরা সায়নীর এই আচরণের সমালোচনা করছেন, তাঁরা বেশ করেছেন। উনি শাখা সংগঠনের প্রধান, তাঁকে তো খুঁজে পেতে হবে।”

সায়নীর রহস্যময় অবস্থান: দিল্লি থেকে ফেরার পথে সায়নীকে ঘিরে সাংবাদিকদের ভিড় থাকলেও, তিনি একটি শব্দেরও উত্তর দেননি। মুখে মাস্ক ও মাথায় টুপি দিয়ে কার্যত নিজেকে আড়াল করেই তিনি বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে যান। বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, এই ঘটনায় তা যেন আরও জোরালো হলো।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: তৃণমূল যখন অভ্যন্তরীণ ভাঙন সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন দলের যুব প্রধানের এই আচরণ ও কুণাল ঘোষের মতো সিনিয়র নেতার খোলাখুলি সমালোচনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সায়নী ঘোষের সঙ্গে দলের সম্পর্কের দূরত্ব অনেকটাই বেড়েছে। সায়নী কি বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন, নাকি তিনি কোনো ব্যক্তিগত কারণে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন—এই প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজছে রাজনৈতিক মহল।

সায়নী ঘোষ যদি খুব দ্রুত তাঁর অবস্থান পরিষ্কার না করেন, তবে এই ঘটনা তৃণমূলের অন্দরে আরও বড় বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy