তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি এবং অস্ত্র আইনের মতো গুরুতর অভিযোগে তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারি নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি ও টলিপাড়া। শুক্রবার তাঁকে আলিপুর আদালতে পেশ করার পরেই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন বিজেপি নেত্রী ও অভিনেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। তাঁর এই মন্তব্য বাংলা বিনোদন জগতের দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ ও অস্বস্তিকর অধ্যায়কে নতুন করে উসকে দিল।
দীর্ঘদিন ধরে টলিউডের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের খবর অনুযায়ী, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাঁর ‘মুদ্রাদোষ’ বা প্রভাব ছিল অনস্বীকার্য। এই প্রভাবশালী নেতার গ্রেফতারিতে স্টুডিওপাড়ার অন্দরে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। লকেট চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, এই অভিযোগ মোটেও নতুন নয়। তিনি বলেন, “আমি বারো বছর আগেই সাংবাদিক বৈঠক করে সবটা জানিয়েছিলাম। স্বরূপ বিশ্বাস এবং অরূপ বিশ্বাস— এই দু’জন মিলে টলিউড ইন্ডাস্ট্রিকে যেভাবে ধ্বংস করেছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”
লকেটের তোপ শুধু স্বরূপ বিশ্বাসের দিকেই নয়, বরং তাঁর সঙ্গে যুক্ত থাকা পুরো চক্রের দিকে। তিনি আরও যোগ করেন, “শুধু স্বরূপ বিশ্বাস নন, এর নেপথ্যে আরও অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁরা তাঁকে প্রশ্রয় দিয়েছেন। তাঁদের কারণেই অসংখ্য টেকনিশিয়ান এবং শিল্পীর রুটি-রোজগার বন্ধ হয়েছে। আমি চাই, শুধু স্বরূপ নয়, তাঁর এই মদতদাতা চক্রেরও কঠোর শাস্তি হোক।”
উল্লেখ্য, নিউ আলিপুর এবং টালিগঞ্জ এলাকার কয়েকজন নির্মাণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তোলাবাজির অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ স্বরূপ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারার পাশাপাশি অস্ত্র আইনের ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। শুক্রবার তাঁকে আলিপুর আদালতে পেশ করা হলে বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে গোটা টলিপাড়া।
দীর্ঘদিন ধরে টলিউডে কাজের সুযোগ বণ্টন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে গোষ্ঠীতন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। অনেক শিল্পী ও টেকনিশিয়ানরা বারবার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিজেদের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারি কেবল একটি নির্দিষ্ট ফৌজদারি মামলার তদন্ত নয়, বরং এটি দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ইন্ডাস্ট্রিগত ক্ষোভের বিস্ফোরণ। ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি এবং তদন্তের মোড় কোন দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





