গ্রেটা থুনবার্গকে আটক করে ‘সেলফি’! লাগেজ ভরে অশ্লীল গালি, ইজরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ভয়ংকর অভিযোগ সুইডিশ অ্যাক্টিভিস্টের

জেরুজালেম: যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় মানবিক সাহায্য নিয়ে যাওয়া ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা’ আটক করার পর ইজরায়েলি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিরুদ্ধে অমানবিক আচরণ ও দুর্ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ এনেছেন বিশ্বখ্যাত সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। আটক শেষে মুক্তি পেয়েই সুইডিশ সংবাদমাধ্যম ‘আফটনব্লাডেট’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই ভয়ংকর অভিযোগ করেছেন তিনি।

গ্রেটা থুনবার্গ অভিযোগ করেছেন যে, আটক থাকার পরে যখন তাঁর মালপত্র (luggage) ফেরত দেওয়া হয়, তখন সেগুলোতে অশ্লীল শব্দ ও ছবি মাখানো ছিল।

‘আঁকা হলো পুরুষাঙ্গ ও ‘বেশ্যা গ্রেটা’ শব্দ’
গ্রেটা থুনবার্গ দাবি করেন, তাঁর মালপত্রের ওপর অশ্লীল গ্রাফিতি আঁকা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল ইজরায়েলের পতাকার ছবি, পুরুষাঙ্গের ইলাস্ট্রেশন এবং ‘Wh**e Greta’ (বেশ্যা গ্রেটা) এর মতো কুরুচিকর শব্দ।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা কর্মীদের মধ্যে ‘মানবতা বা সহানুভূতি’র অভাব ছিল। তাঁকে বেঁধে ফেলা হয় এবং কর্মীরা তাঁর সঙ্গে জোর করে সেলফি তোলেন।

‘ধাক্কা মেরে ফেলে দিচ্ছিল, সেলফি নিচ্ছিল গার্ডরা’
গ্রেটা তাঁর ওপর হওয়া দুর্ব্যবহারের কিছু অংশ বর্ণনা করে বলেন, “গার্ডদের কোনো সহানুভূতি বা মানবতা ছিল না, আর তারা বারবার আমার সাথে সেলফি নিচ্ছিল। তারা আমাকে বেঁধে ফেলে সেলফি তোলে। তারা আমাকে অন্য সবার বসার জায়গা থেকে টেনে বিপরীত দিকে নিয়ে যায় এবং পুরো সময় আমার গায়ে পতাকা জড়ানো ছিল। তারা আমাকে আঘাত করে এবং লাথি মারে।”

তিনি আরও বলেন, “একসাথে এত কিছু হচ্ছিল যে আমি হতবাক হয়ে যাই। আমি ব্যথায় ছিলাম, কিন্তু শান্ত থাকার চেষ্টা করছিলাম।”

গ্যাস চেম্বারের হুমকি এবং ৫০০ জন আটক
গ্রেটা অভিযোগ করেছেন, গার্ডরা আরও ভয়াবহ কাণ্ড ঘটিয়েছিল। তারা নাকি আটক অ্যাক্টিভিস্টদের ‘গ্যাস চেম্বারে ভরার’ হুমকি দিয়েছিল। তাঁরা এক সিলিন্ডার হাতে নিয়ে আসেন এবং এমনভাবে সিলিন্ডারটি নাড়ছিলেন যেন তা আটককৃতদের দিকে ছুঁড়ে মারা হবে। তিনি দেখেন, প্রায় ৫০ জন ব্যক্তিকে হাতকড়া পরানো অবস্থায় হাঁটু গেড়ে বসে, কপাল মাটিতে ঠেকিয়ে থাকতে।

ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।

অন্যদিকে, এই আন্তর্জাতিক সাহায্য ফ্লোটিলার অন্যতম প্রধান সংগঠক, ব্রাজিলের অ্যাক্টিভিস্ট থিয়াগো আভিলা জানিয়েছেন, ইজরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও গাজায় ত্রাণ পাঠানোর এই আন্দোলন থামবে না। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তিগুলোতে গাজার উপর ইজরায়েলের অবৈধ অবরোধ তুলে নেওয়ার কোনো ইঙ্গিত নেই। থিয়াগোর স্পষ্ট বার্তা: “যতদিন ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হচ্ছে, ফ্লোটিলা চলতেই থাকবে।”

গ্রেটা থুনবার্গের ওপর এমন আচরণের ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনা নিয়ে আপনার কী মতামত?

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy