শীতের মিঠে রোদে চারিদিকে রঙবেরঙের ফুলের মেলা। আলিপুরদুয়ারের বিবেকানন্দ ২ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামটি এখন আর পাঁচটা সাধারণ গ্রামের মতো নেই। পর্যটক থেকে স্থানীয় মানুষ— সকলের কাছে এই এলাকা এখন পরিচিত ‘নার্সারি পাড়া’ নামে। গ্রামজুড়ে ডালিয়া, গোলাপ, চন্দ্রমল্লিকা থেকে শুরু করে বিদেশি গাজানিয়া বা পিটুনিয়ার সমারোহ। আর এই ফুলের কারবার করেই আজ স্বনির্ভরতার নতুন দিশা খুঁজে পেয়েছেন এলাকার প্রায় ১০০টি পরিবার।
এক সময় এই গ্রামের মানুষ বিকল্প জীবিকার সন্ধানে থাকতেন। কিন্তু এখন ডাঙ্গাপাড়া মানেই এক বিশাল নার্সারি হাব। এখানকার উৎপাদিত ফুল শুধু আলিপুরদুয়ার জেলাতেই নয়, পৌঁছে যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী জেলা এবং ভিন রাজ্যগুলোতেও। মূলত শীতকালেই ব্যবসার রমরমা থাকলেও, এখানকার নার্সারিগুলিতে সারা বছরই চলে ইনডোর প্ল্যান্ট ও সিজনাল ফুলের চাষ। গাঁদা, সূর্যমুখী, কসমস, স্যালভিয়া কিংবা কারনেশনের মতো কয়েক ডজন প্রজাতির ফুল মার্চ মাস পর্যন্ত গ্রামের সৌন্দর্য বাড়িয়ে রাখে।
নার্সারি মালিক নৃপেন্দ্র দাস জানান, “আমাদের পরিবার বহু আগে থেকেই এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। গ্রামবাসী যখন এই পেশায় আসার আগ্রহ দেখাল, আমি পাশে দাঁড়িয়েছি। এখন গ্রামের মহিলারাও এই কাজে সমান পারদর্শী এবং আর্থিকভাবে স্বচ্ছল।” ফুল চাষের মাধ্যমে গ্রামের এই ভোলবদল যেমন আর্থিক উন্নয়ন ঘটিয়েছে, তেমনই পরিবেশকেও করে তুলেছে মোহময়ী। ডাঙ্গাপাড়ার এই সাফল্য উত্তরবঙ্গের অন্যান্য গ্রামের কাছেও এখন বড় অনুপ্রেরণা।