মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের কালো মেঘ। ইরান, ইজরায়েল এবং আমেরিকার মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের হেঁশেলে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের অস্থিরতার জেরে গত শনিবার থেকেই একলাফে অনেকটা বাড়ানো হয়েছে এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের দাম। গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের দাম সিলিন্ডার প্রতি ৬০ টাকা এবং বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ১১৫ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় কপালে ভাঁজ পড়েছে আমজনতার। তবে দাম বাড়লেও রান্নার গ্যাসের জোগান নিয়ে সাধারণ মানুষকে বড়সড় অভয় দিল মোদী সরকার।
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকলেও দেশে রান্নার গ্যাসের ঘাটতি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, ভারতের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে এলপিজি মজুত রয়েছে। সুতরাং, “গ্যাস পাওয়া যাবে না” এই আতঙ্কে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে দামের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও বুকিংয়ের ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জানা গেছে, রান্নার গ্যাসের বুকিংয়ের সময়সীমা কিছুটা বাড়ানো হয়েছে, যা উপভোক্তাদের জন্য কিছুটা চিন্তার কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি তেলের পাশাপাশি গ্যাসের দাম আরও বাড়তে পারে। কারণ ভারত তার চাহিদার বড় অংশই আমদানি করে। বর্তমানে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম যেভাবে ১১৫ টাকা বেড়েছে, তাতে হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর বড় আর্থিক চাপ তৈরি হবে। এর ফলে পরোক্ষভাবে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে সরকারের পক্ষ থেকে “গ্যাস খাবেন না” বা ঘাটতি হবে না—এই বার্তা অন্তত বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে কিছুটা মানসিক স্বস্তি দিচ্ছে।