দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্কে রবিবার রাতের সেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের তৎপরতা তুঙ্গে। বোমাবাজি, গুলি এবং ব্যাপক ভাঙচুরের তদন্তে নেমে মঙ্গলবার রাতে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করল রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশ। এই নিয়ে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মোট ১৯ জন পুলিশের জালে ধরা পড়ল। তবে ঘটনার তিন দিন পার হয়ে গেলেও সংঘর্ষের নেপথ্যে থাকা দুই মূল কারিগর বা দুই গোষ্ঠীর ‘মাথা’ এখনও পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে।
নতুন করে গ্রেফতার ২: পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পঞ্চাননতলা রোডে ধারাবাহিক তল্লাশি চালিয়ে রাকেশ বণিক ও রাজীব দাস ওরফে সোনুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত দু’জনই স্থানীয় বাসিন্দা এবং সংঘর্ষের সময় সক্রিয়ভাবে উপস্থিত ছিল বলে অভিযোগ। এর আগে রবিবার রাতেই ১০ জনকে পাকড়াও করা হয়েছিল। সোমবার ও মঙ্গলবার দফায় দফায় অভিযানে আরও ৭ জনকে ধরা হয়।
পিকনিকের আড়ালে তাণ্ডব: ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ। গোলপার্কের কাছে পঞ্চাননতলা এলাকায় একটি ক্লাবে পিকনিক চলছিল। অভিযোগ, সামান্য বচসা থেকেই বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী বাপি হালদারের অনুগামীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। মুহুর্মুহু বোমাবাজি ও গুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বাসিন্দারা। ঘরের জানলা-দরজা বন্ধ করে প্রাণ হাতে করে বসেছিলেন সাধারণ মানুষ।
ফেসবুক লাইভে সাফাই: এলাকাবাসীর নিশানায় থাকা ‘সোনা পাপ্পু’ মঙ্গলবার ফেসবুক লাইভে এসে নিজের নির্দোষ হওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার সময় তিনি নিজের বাড়িতেই ছিলেন এবং তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। যদিও কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, “তদন্ত এখনও চলছে, কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।” এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি থাকায় মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। মূল পান্ডাদের ধরতে শহরজুড়ে তল্লাশি চালাচ্ছে গোয়েন্দা বিভাগ।