গোয়া-দিঘার ভিড় ভুলে যান! ডলফিনের সাথে হাঁটুন ওড়িশার এই ‘ভার্জিন’ দ্বীপে

গোয়া বা দিঘার উপচে পড়া ভিড় আর কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে চাইছেন? তাহলে আপনার পরবর্তী গন্তব্য হতে পারে ওড়িশার রাজহংস দ্বীপ। পুরী থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দ্বীপটি এখনো পর্যটকদের ভিড় থেকে দূরে, এক কথায় ‘ভার্জিন’। চিলকা লেক আর বঙ্গোপসাগরের মাঝখানে অবস্থিত এই দীর্ঘ বালির চর যেন প্রকৃতির এক অদ্ভুত সৃষ্টি। একপাশে লেকের শান্ত নীল জল, অন্যপাশে সমুদ্রের গর্জন—মাঝখানে দাঁড়ালে মনে হবে আপনি দুটো ভিন্ন জগতের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছেন।

রাজহংস দ্বীপের প্রধান আকর্ষণ হলো এর ‘কোস্টাল ট্রেক’। সাতপাড়া থেকে বোট নিয়ে গিয়ে এই দ্বীপের ৪-৫ কিলোমিটার পথ হাঁটা এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। সমুদ্রের ধার ঘেঁষে হাঁটতে হাঁটতে চোখে পড়বে হাজার হাজার লাল কাঁকড়ার দৌড়ঝাঁপ, যারা বালির ওপর যেন আল্পনা এঁকে রাখে। ভাগ্য ভালো থাকলে সমুদ্রের দিকে তাকালেই দেখবেন ইরাবতী ডলফিনের লাফালাফি। শীতকালে এখানে প্রচুর পরিযায়ী পাখি আসে। পুরো পথে আপনার সঙ্গী হবে কেবল সমুদ্রের গর্জন আর বাতাসের শোঁ-শোঁ শব্দ।

কীভাবে যাবেন এবং কখন যাবেন? ভ্রমণের সেরা সময় অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি। পুরী বা ভুবনেশ্বর থেকে সাতপাড়া পর্যন্ত গাড়ি বা ট্রেনে পৌঁছানো যায়। এরপর মোটরবোট ভাড়া করে ৩০ মিনিটেই পৌঁছে যাবেন দ্বীপে। তবে মনে রাখবেন, এখানে কোনো স্থায়ী দোকান বা টয়লেট নেই। তাই খাবার ও জল সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক।

কিছু জরুরি সতর্কতা:
১. সকাল ৭টার মধ্যেই রওনা দিন, যাতে দুপুরের রোদে কষ্ট না পেতে হয়।
২. সমুদ্রের সি-মাউথ পয়েন্টে স্রোত খুব বেশি, তাই জলে নামা বিপজ্জনক।
৩. প্রকৃতিকে ভালোবাসুন, এখানে প্লাস্টিক বা চিপসের প্যাকেট ফেলে পরিবেশ নষ্ট করলে বড় অঙ্কের জরিমানা হতে পারে।

রাজহংস দ্বীপে থাকার ব্যবস্থা নেই, তাই ডে-ট্রিপ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। ৪ জনের গ্রুপ হলে বোট ও গাড়ি মিলিয়ে জনপ্রতি ১২০০-১৫০০ টাকার মধ্যেই এই ভ্রমণ সম্ভব। যারা নিরিবিলিতে প্রকৃতির সাথে সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য রাজহংস দ্বীপের মতো জায়গা আর হয় না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy