‘গৃহিণীরাই দেশের আসল নির্মাতা’! মাস গেলে অন্তত ৩০ হাজার টাকা পাওয়ার যোগ্য, ঐতিহাসিক মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের

দীর্ঘদিন ধরে চলা এক বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে গৃহিণীদের কাজের স্বীকৃতি নিয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালত এক পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানাল, গৃহিণীরা বা হোমমেকাররা নিছক পরিবারের সদস্য নন, তাঁরা দেশের নেপথ্য-নির্মাতা। বাড়ির যাবতীয় কাজ সামলে একজনকে জীবনে এগিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে যে নিরলস পরিশ্রম তাঁরা করেন, তাকে সম্মান জানিয়ে আদালত বলেছে, গৃহিণীদের মাসে অন্তত ৩০,০০০ টাকা আর্থিক মূল্যের প্রাপ্য হওয়া উচিত।

আদালতের নজিরবিহীন পর্যবেক্ষণ: আদালত জানিয়েছে, গৃহিণীরা প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যে পরিমাণ শারীরিক ও মানসিক শ্রম দেন, তা কোনো আট-পাঁচটার চাকরির চেয়ে কম নয়। আদালত আরও বলেছে, “ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে গৃহিণীদের ভূমিকা কেবল রাঁধুনি বা সেবিকার নয়, তাঁরা পরিবার ও সমাজের ভিত্তিপ্রস্তর। বাড়ির সবকিছু নিখুঁতভাবে সামলে একজন পুরুষ বা শিশুকে জীবনে সফল হতে সাহায্য করার মাধ্যমে তাঁরা আদতে দেশ গড়ছেন।”

কেন এই ৩০ হাজার টাকার হিসেব? আদালতের এই পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, একজন গৃহিণীর কাজের বহুমুখী প্রকৃতিকে যদি পেশাদার নিরিখে বিচার করা হয়—যেমন রাঁধুনি, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ম্যানেজার, শিশু যত্নকারী এবং প্রবীণদের সেবিকা—তাহলে তাঁদের মাসিক অবদান কোনোভাবেই ৩০,০০০ টাকার কম হতে পারে না। গৃহিণীর অবদানের কোনো নির্দিষ্ট ‘প্রাইস ট্যাগ’ না থাকলেও, আর্থিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ অর্থকে নূন্যতম সম্মান হিসেবে দেখছে আদালত।

সামাজিক প্রভাব: এই মন্তব্য কার্যত ভারতের লক্ষ লক্ষ গৃহিণীর কাজের অবমূল্যায়ন দূর করার একটি বড় পদক্ষেপ। সাধারণত গৃহস্থালির কাজকে ‘বিনামূল্যে’ সেবা হিসেবেই গণ্য করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের এই বার্তা গৃহিণীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের ডাক দিয়েছে।

  • স্বীকৃতি: ঘরের কাজের মর্যাদা এখন আইনি স্বীকৃতি পেল।

  • অর্থনৈতিক সুরক্ষা: পারিবারিক বিবাদ বা খোরপোশ সংক্রান্ত মামলায় এই রায় গৃহিণীদের জন্য এক নতুন আইনি কবচ হিসেবে কাজ করবে।

সুপ্রিম কোর্টের এই সাহসী ও প্রগতিশীল রায় দেশের সমাজব্যবস্থায় এক নতুন চেতনার উন্মেষ ঘটাবে বলেই মনে করছেন সমাজবিজ্ঞানী ও নারী অধিকার কর্মীরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy