প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্রিগেড সমাবেশের দিন উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্কে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে যে রণক্ষেত্র তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে এবার চরম কঠোর অবস্থান নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। কলকাতা পুলিশের জমা দেওয়া প্রাথমিক রিপোর্টে সন্তুষ্ট হতে পারেননি কমিশনের কর্তারা। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ এবং বিশদ ব্যাখ্যা চেয়ে ফের লালবাজারকে কড়া চিঠি পাঠাল কমিশন।
কেন কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপ?
কমিশন সূত্রে খবর, পুলিশের প্রথম রিপোর্টে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের অভাব রয়েছে। বিশেষ করে কয়েকটি জ্বলন্ত প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েছে দিল্লি:
গোয়েন্দা ব্যর্থতা: উত্তেজনার আঁচ কি আগে থেকে পাওয়া যায়নি? কোনো আগাম সতর্কবার্তা কি ছিল না?
পুলিশের ভূমিকা: সংঘর্ষ শুরু হওয়ার সময় স্থানীয় পুলিশ কেন নিষ্ক্রিয় ছিল?
কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রশ্ন: এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও তারা কেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরাসরি ময়দানে নামল না?
ওই দিন ব্রিগেডে যাওয়ার পথে গিরিশ পার্ক মোড়ে উত্তেজনা ছড়ায়। তৃণমূলের দাবি, বিজেপির সমর্থকরা বাস থেকে নেমে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে অতর্কিতে হামলা চালায়। অন্যদিকে, বিজেপির পাল্টা অভিযোগ— তৃণমূল কর্মীরাই প্রথমে তাদের বাসে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে হামলা শুরু করেছিল। দুই পক্ষের এই সংঘাত মুহূর্তের মধ্যে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
তদন্তের গতিপ্রকৃতি
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর:
এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তৃণমূল ও বিজেপি—উভয় পক্ষই পৃথকভাবে থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে।
সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দোষীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।
কমিশনের কড়া বার্তা: নির্বাচনের মুখে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন কতটা তৎপর ছিল, নাকি কোথাও নিরাপত্তার গাফিলতি ছিল— তা খতিয়ে দেখতেই এই বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। রিপোর্টের ভিত্তিতে বড়সড় রদবদলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না ওয়াকিবহাল মহল।