বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে প্যান কার্ড (PAN Card) কেবল একটি পরিচয়পত্র নয়, এটি আর্থিক লেনদেনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আয়কর দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে প্যান কার্ডের তথ্য না দিলে আপনি আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন, এমনকি হতে পারে বড় অঙ্কের জরিমানা।
জেনে নিন কোন ১০টি ক্ষেত্রে প্যান কার্ড বাধ্যতামূলক:
১. ব্যাঙ্কে বড় অঙ্কের নগদ জমা
একদিনে যে কোনও ব্যাঙ্কে ৫০,০০০ টাকার বেশি নগদ জমা করতে গেলে প্যান কার্ডের তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক।
২. স্থাবর সম্পত্তি কেনাবেচা
আপনি যদি ১০ লক্ষ টাকার বেশি মূল্যের কোনও জমি, বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনাবেচা করেন, তবে প্যান কার্ড থাকা মাস্ট। সম্পত্তির স্ট্যাম্প ভ্যালু ১০ লক্ষের বেশি হলেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
৩. নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট
কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক হোক বা সাধারণ বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক— বেসিক সেভিং অ্যাকাউন্ট (BSBD) ছাড়া অন্য যে কোনও অ্যাকাউন্ট খুলতে গেলে প্যান কার্ড লাগবেই।
৪. চারচাকা গাড়ি কেনা
২০২৬ সালের এপ্রিল মাস থেকে কার্যকর হওয়া নিয়ম অনুযায়ী, ৫ লক্ষ টাকার বেশি দামের যে কোনও চারচাকা গাড়ি কিনতে গেলে প্যান কার্ড জমা দিতে হবে। তবে টু-হুইলারের ক্ষেত্রে এই নিয়ম নেই।
৫. বিদেশ ভ্রমণ ও মুদ্রা বিনিময়
বিদেশে ঘুরতে যাওয়ার খরচ মেটাতে বা বিদেশি মুদ্রা (Foreign Currency) কিনতে যদি আপনি ৫০,০০০ টাকার বেশি নগদ লেনদেন করেন, তবে প্যান কার্ড জরুরি।
৬. হোটেল বা রেস্তোরাঁর বিল
দামী হোটেল বা রেস্তোরাঁয় খাওয়া-দাওয়ার পর যদি এককালীন ৫০,০০০ টাকার বেশি নগদ পেমেন্ট করেন, তবে প্যান কার্ডের প্রয়োজন হবে।
৭. লাইফ ইনসিওরেন্স প্রিমিয়াম
একটি অর্থ বছরে জীবন বিমার কিস্তি বা প্রিমিয়াম বাবদ ৫০,০০০ টাকার বেশি লেনদেন করতে গেলে প্যান কার্ড বাধ্যতামূলক।
৮. মিউচুয়াল ফান্ড ও বন্ডে বিনিয়োগ
শেয়ার বাজার বা মিউচুয়াল ফান্ডে ৫০,০০০ টাকার বেশি বিনিয়োগ করতে গেলে প্যান কার্ড লাগবে। বন্ড বা ডিবেঞ্চার কেনার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম।
৯. দামী পণ্য বা পরিষেবা ক্রয়
একক লেনদেনে (Single Transaction) যদি ২ লক্ষ টাকার বেশি মূল্যের কোনও পণ্য বা পরিষেবা কেনেন, তবে প্যান কার্ডের তথ্য দিতেই হবে।
১০. ড্রাফট বা পে-অর্ডার
এক অর্থ বছরে ৫০,০০০ টাকার বেশি মূল্যের ব্যাঙ্ক ড্রাফট, পে-অর্ডার বা ব্যাঙ্কার্স চেক ইস্যু করতে গেলে প্যান কার্ড ছাড়া কাজ হবে না।





