মানুষ আজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) নিয়ে বিশ্বজয় করলেও, এক ফোঁটা বৃষ্টির জন্য আজও তাকে প্রকৃতির মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হয়। বিজ্ঞান চাইলেই খরা রুখতে পারে না, কিন্তু এক বিশাল জঙ্গল তা অনায়াসেই পারে। আমাজন বা কঙ্গোর মতো রেনফরেস্টগুলো প্রমাণ করে দিয়েছে যে, বৃষ্টি নামানোর চাবিকাঠি আসলে মেঘের নয়, বরং গাছের হাতে।
কী এই ‘বায়োটিক পাম্প’ থিওরি?
বিজ্ঞানীদের মতে, ঘন জঙ্গল নিজেই নিজের বৃষ্টির ব্যবস্থা করে নেয়। একে বলা হয় ‘বায়োটিক পাম্প থিওরি’ (Biotic Pump Theory)। জঙ্গলের অগুনতি গাছ এবং ভিজে মাটি প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প বাতাসে ছাড়ে। এই জলীয় বাষ্প স্থানীয়ভাবে আকাশে ঘনীভূত হয়ে মেঘের সৃষ্টি করে এবং সেই মেঘ থেকেই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামে। এই প্রক্রিয়ার জন্য জঙ্গলকে কোনো বিশেষ মরসুমের অপেক্ষা করতে হয় না।
প্রকৃতির নিজস্ব রেইনমেকার:
আমাজনের রেনফরেস্টে দেখা গেছে, বর্ষা কবে শুরু হবে তা গাছেরাই স্থির করে। কঙ্গোর গহন অরণ্যেও একই চিত্র। যেখানে মানুষের তৈরি প্রযুক্তি ব্যর্থ, সেখানে এই ঘন সবুজ অরণ্যই পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষা করছে। বনভূমি ধ্বংসের ফলে আজ বৃষ্টির খরা দেখা দিচ্ছে, যা প্রমাণ করে যে পৃথিবী সবুজ না থাকলে মানুষের উন্নত প্রযুক্তিও আমাদের তৃষ্ণা মেটাতে পারবে না।