গত এক দশকের মধ্যে ভয়াবহ খরা? এল নিনোর কামড়ে কি শুকিয়ে যাবে ভারতের বর্ষা?

গত দু’বছর ধরে ভারত টানা ভালো বর্ষা ও বাম্পার ফসলের সাক্ষী থেকেছে। কিন্তু ২০২৬ সালে সেই সাফল্যের ধারা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইন্ডিয়া মেটিওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট (IMD)-এর সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের ৯০ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। এই পূর্বাভাস যদি সত্যি হয়, তবে ২০২৬ সাল গত এক দশকের মধ্যে ভারতের সবচেয়ে শুষ্কতম বর্ষাকাল হিসেবে চিহ্নিত হতে চলেছে।

কেন এই ভয়ংকর পূর্বাভাস?
এই পরিস্থিতির মূল খলনায়ক হলো ‘এল নিনো’। প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে তৈরি হওয়া এই তাপীয় ইঞ্জিন যখন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, তখন বাতাসের গতিপ্রকৃতি বদলে যায়। ফলে ভারতীয় উপমহাদেশে আর্দ্র বায়ুর প্রবেশ বাধাপ্রাপ্ত হয়। আইএমডি-র তথ্যমতে, খারাপ বর্ষার সম্ভাবনা ঐতিহাসিকভাবে মাত্র ১৬ শতাংশ থাকলেও, চলতি বছর তা চারগুণ বেড়ে গেছে। এর ওপর বিপদ বাড়িয়েছে ‘ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল’ (IOD) বা আইওডি-র নিরপেক্ষ অবস্থান। অতীতে শক্তিশালী ধনাত্মক আইওডি এল নিনোর প্রভাব কাটিয়ে ভারতকে রক্ষা করলেও, ২০২৬ সালে এমন কোনো প্রাকৃতিক সুরক্ষা কবচ থাকছে না।

কৃষিতে অশনি সংকেত:
আইএমডি-র মানচিত্র অনুযায়ী, গুজরাট থেকে ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত ‘মৌসুমী কোর জোন’-এ বৃষ্টির ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ভারতের ৬০ শতাংশ কৃষক বৃষ্টির ওপর নির্ভর করে চাষ করেন। জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই দীর্ঘ চার মাসে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে খরিফ শস্য, বিশেষ করে ধান, ডাল ও তৈলবীজের উৎপাদন মারাত্মকভাবে মার খেতে পারে। খাদ্যের ফলন কমলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়ে গিয়ে মূল্যস্ফীতির বোঝা চাপবে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে।

অস্ট্রেলিয়ার ব্যুরো অফ মেটিওরোলজি এবং নাসার স্যাটেলাইট তথ্যও প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণায়নকে এল নিনোর স্পষ্ট সংকেত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। যদিও আইএমডি জুলাইয়ের শেষে নতুন বুলেটিন প্রকাশ করবে, তবে বর্তমান পরিসংখ্যান উপেক্ষা করার মতো নয়। প্রশ্ন এখন আর এটি নয় যে, বর্ষা কেমন হবে; প্রশ্ন হলো, পরিস্থিতি কতটা খারাপ হতে পারে। প্রকৃতির এই রূঢ় খেলায় ভারতের কৃষি ও অর্থনীতি এখন এক বড় সংকটের মুখোমুখি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy