গড় রক্ষা বনাম পরিবর্তনের লড়াই! মুর্শিদাবাদের প্রেস্টিজ ফাইটে কি খাতা খুলবে বিজেপি?

বাংলার রাজনীতির সবথেকে হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্রগুলোর অন্যতম বহরমপুর এবার এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই লালমাটির দুর্গ ছিল কংগ্রেসের দাপুটে নেতা অধীর চৌধুরীর দখলে। কিন্তু ২০২৬-এর নির্বাচনে চেনা পিচেই এক ‘অচেনা’ লড়ায়ের মুখোমুখি বর্ষীয়ান এই নেতা। একদিকে শাসকদলের ‘উন্নয়ন’ কার্ড, অন্যদিকে গেরুয়া শিবিরের ‘গড় রক্ষা’র মরিয়া চেষ্টা— সব মিলিয়ে বহরমপুরের লড়াই এবার আক্ষরিক অর্থেই কাঁটায় কাঁটায়।

তৃণমূল কংগ্রেস এবার বহরমপুরে সবথেকে বড় বাজি ধরেছে তাদের সরকারি প্রকল্প এবং তৃণমূল স্তরের উন্নয়নের ওপর। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ থেকে শুরু করে গ্রামীণ পরিকাঠামো— এই উন্নয়নের জোয়ারে ভর করেই অধীর চৌধুরীর সাম্রাজ্যে ধস নামাতে মরিয়া ঘাসফুল শিবির। জোড়াফুল শিবিরের দাবি, বহরমপুরের মানুষ এবার আবেগের বদলে উন্নয়নের পক্ষে ভোট দেবেন। অন্যদিকে, বিজেপি এবার এই কেন্দ্রে তাদের হিন্দুত্ববাদী ভোটব্যাঙ্ক এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সাফল্যের কথা প্রচার করে কংগ্রেসের এই পুরোনো গড়ে ভাগ বসাতে চাইছে। বিজেপির লক্ষ্য— ভোট কাটাকাটির অঙ্ককে কাজে লাগিয়ে প্রথমবার বহরমপুরে পদ্ম ফোটানো।

তবে লড়াইটা যে সহজ হবে না, তা জানেন অধীর চৌধুরীও। তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং মুর্শিদাবাদের মানুষের সঙ্গে তাঁর নাড়ির টানই কংগ্রেসের সবথেকে বড় হাতিয়ার। ১ এপ্রিল থেকে এই ত্রিমুখী লড়াই আরও তীব্র হতে চলেছে। সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক যদি তিন ভাগে ভাগ হয়ে যায়, তবে তার সরাসরি সুবিধা কার দিকে যাবে— তা নিয়েই এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে রাজনৈতিক মহলে। উন্নয়নের জোয়ার, আবেগের লড়াই না কি গেরুয়া ঝোড়ো হাওয়া— শেষ পর্যন্ত বহরমপুরের মসনদ কার দখলে থাকে, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy