খুনির ঘরে ছাগলই ধরিয়ে দিল অপরাধী! ১০ বছরের বালিকার নির্মম হত্যার লোমহর্ষক রহস্যভেদ

অপরাধী যতই ধূর্ত হোক না কেন, প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে কোনো না কোনো সূত্র ঠিকই রয়ে যায়। রাজধানীর বাইপাস থানা এলাকার জাল্লা মহাবীর মন্দিরের কাছে ১০ বছর বয়সী এক নিষ্পাপ বালিকার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তেমনই এক নাটকীয় মোড় সামনে এল। প্রমাণ লোপাটের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে খুনিকে ধরিয়ে দিল সামান্য কয়েক টুকরো ছাগলের লোম।

নিখোঁজ থেকে আবর্জনার স্তূপ: মর্মান্তিক সেই রাত
গত ২৩শে এপ্রিল বাড়ি থেকে দুধ কিনতে বেরিয়েছিল ১০ বছরের এক বালিকা। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সে আর ফেরেনি। পরের দিন সকালে একটি সরু গলির আবর্জনার স্তূপের কাছে একটি কম্বল মোড়ানো অবস্থায় তার নিথর দেহ উদ্ধার হয়। এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশের ওপর দ্রুত ঘাতককে ধরার চাপ বাড়তে থাকে।

তদন্তে নয়া মোড়: ছাগলের পশমই যখন তুরুপের তাস
পাটনার এসএসপি কার্তিকেয় কে. শর্মা জানান, তদন্তের সময় পুলিশ লক্ষ্য করে যে দেহটি যে কম্বলে মোড়ানো ছিল, তাতে প্রচুর পরিমাণে ছাগলের লোম লেগে আছে। পুলিশের সন্দেহ হয়, খুনি অবশ্যই এমন কেউ যার কাছাকাছি ছাগল রয়েছে। এই সূত্র ধরে গলিটিতে তল্লাশি চালাতেই একটি ঘরের সামনে ৪-৫টি ছাগল বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়। ঘরটি বাইরে থেকে তালাবন্ধ ছিল।

ভেতরে নরককুণ্ড, বাইরে তালা
সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতেই চমকে ওঠে। দেখা যায়, অভিযুক্ত রঞ্জিত ফ্যান ছাড়াই প্রচণ্ড গরমে ঘামছে এবং ভেতরে লুকিয়ে আছে। বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে সে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল এবং জানালার ফাঁক দিয়ে পুলিশের গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল।

স্বীকারোক্তি: যেভাবে ঘটানো হয়েছিল পাষণ্ড কাজ
জেরার মুখে ভেঙে পড়ে রঞ্জিত। সে জানায়, অসৎ উদ্দেশ্যে সে মেয়েটিকে নিজের ঘরে প্রলুব্ধ করে নিয়ে আসে। মেয়েটি চিৎকার শুরু করলে পাশবিক আক্রোশে একটি ভারি শীল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে সে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় শিশুটির। সারাদিন বিছানার নিচে লাশ লুকিয়ে রেখে রাত ২টোর দিকে পুকুরে ফেলার চেষ্টা করে সে। কিন্তু পুলিশের টহল গাড়ি দেখে ভয়ে আবর্জনার স্তূপেই লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। পুলিশের এই ক্ষুরধার বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা এখন সবার মুখে মুখে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy