খাদ্যতালিকায় লাল মাংস? অজান্তেই ডেকে আনছেন না তো সাইলেন্ট কিলার ডায়াবেটিসকে?

খাদ্যরসিক বাঙালির পাতে কচি পাঁঠার ঝোল বা বিফ কারি না থাকলে যেন জমে না। কিন্তু সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর গবেষণায় যে তথ্য সামনে এসেছে, তা শুনে যে কোনো ভোজনরসিকের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়তে বাধ্য। চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক নয়া গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, যারা নিয়মিত লাল মাংস বা রেড মিট খান, তাদের টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়।

আমেরিকার হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অফ পাবলিক হেলথ-এর গবেষকরা দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে প্রায় ২ লক্ষ ১৬ হাজার মানুষের ওপর এই সমীক্ষা চালিয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সপ্তাহে মাত্র দুই দিন বা তার বেশি লাল মাংস খান, তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত লাল মাংস (যেমন—বেকন, সসেজ বা হট ডগ) স্বাস্থ্যের জন্য আরও বেশি বিপজ্জনক। গবেষকদের মতে, প্রতিদিন যদি কেউ মাত্র ৫০ গ্রাম প্রক্রিয়াজাত লাল মাংস খান, তবে তার ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ৪৬ শতাংশ বেড়ে যায়। আর যদি কেউ অপ্রক্রিয়াজাত লাল মাংস (যেমন—গরু বা খাসির মাংস) খান, তবে সেই ঝুঁকি থাকে প্রায় ২৪ শতাংশ।

কেন এই ঝুঁকি বাড়ছে? গবেষকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, লাল মাংসে উচ্চমাত্রায় স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, যা শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে। অর্থাৎ, শরীর ইনসুলিন হরমোনকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না, ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়তে থাকে। এছাড়া লাল মাংসে উপস্থিত ‘হিম আয়রন’ শরীরে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন তৈরি করতে পারে, যা ডায়াবেটিসের অন্যতম কারণ।

ডায়াবেটিস থেকে বাঁচতে বিশেষজ্ঞরা রেড মিটের পরিবর্তে উদ্ভিদজাত প্রোটিন যেমন—বাদাম, ডাল, সয়াবিন এবং হোল গ্রেইন বা পূর্ণ শস্য খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, যদি খাদ্যতালিকা থেকে একদিন লাল মাংস বাদ দিয়ে এক মুঠো বাদাম বা এক বাটি ডাল খাওয়া যায়, তবে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রায় ৩০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব। সুস্থ থাকতে এখনই আপনার খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy