রাজনীতির আঙিনায় তিনি নতুন মুখ নন, তবে এবার তাঁর কাঁধে গুরুদায়িত্ব। ঝাড়গ্রামের ভূমিপুত্র ক্ষুদিরাম টুডু এখন রাজ্যের মন্ত্রীসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। পেশায় নিজে একজন শিক্ষক হওয়ায় শিক্ষা দপ্তর এবং বিশেষ করে স্কুল সার্ভিস কমিশন বা এসএসসি নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি কী হতে চলেছে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।
শিক্ষক হিসেবে তিনি দীর্ঘকাল চক-ডাস্টারের লড়াই চালিয়েছেন। শ্রেণিকক্ষের নাড়ি যেমন তিনি বোঝেন, তেমনই বোঝেন হবু শিক্ষকদের যন্ত্রণাও। শপথ নেওয়ার পরেই তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনাই তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে এসএসসি নিয়োগ ঘিরে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা মেটাতে তিনি যে বদ্ধপরিকর, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট।
নিয়োগ জট ও আগামীর পরিকল্পনা
এসএসসি নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা চলছে। ক্ষুদিরাম টুডু মনে করেন, স্বচ্ছতা বজায় রেখেই এই জট খোলা সম্ভব। তিনি জানিয়েছেন, যোগ্য প্রার্থীরা যাতে বঞ্চিত না হন, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে চান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জঙ্গলমহলের এক জনদরদী শিক্ষককে মন্ত্রীসভায় নিয়ে আসাটা একটা বড় মাস্টারস্ট্রোক। ক্ষুদিরাম বাবুর দীর্ঘ শিক্ষকতার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সরকার চাইছে আমজনতার আস্থা ফিরে পেতে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপযুক্ত পরিকাঠামো এবং পর্যাপ্ত শিক্ষকের উপস্থিতিই পারে গ্রাম বাংলার শিক্ষার মান উন্নয়ন করতে।
নজর যখন জঙ্গলমহলে
শুধু এসএসসি নয়, আদিবাসী সমাজ এবং জঙ্গলমহলের শিক্ষা ব্যবস্থার দিকেও তাঁর বিশেষ নজর থাকবে। সাঁওতালি মাধ্যমে পঠনপাঠনের সুবিধা বৃদ্ধি এবং অলচিকি লিপির প্রসারেও তিনি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা ভাবছেন। তিনি বলেন, “আমি নিজে শিক্ষক, তাই শিক্ষাক্ষেত্রের সমস্যাগুলো আমার কাছে অজানা নয়। সাধারণ মানুষের আশীর্বাদ থাকলে আমি নিশ্চয়ই সফল হব।”
এখন দেখার, শিক্ষক ক্ষুদিরাম টুডু মন্ত্রী হিসেবে কতটা দক্ষতার সঙ্গে এসএসসির জট ছাড়াতে পারেন এবং কয়েক হাজার কর্মপ্রার্থীর মুখে হাসি ফোটাতে পারেন।





