২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্য রাজনীতির পারদ এখন তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের (CEO) দফতরে নালিশ জানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বিকেলে কমিশনের অফিসে গিয়ে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় আধা-সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে উস্কানি দিচ্ছেন, যা অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিপন্থী।
শুভেন্দু অধিকারী এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় ভোটারদের প্ররোচিত করছেন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বলছেন কেন্দ্রীয় বাহিনী এলে আপনারা খুন্তি-হাতা নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। এটা সরাসরি বাহিনীর কাজে বাধা দেওয়া এবং অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা। আমরা তাঁর এই বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজ কমিশনের কাছে জমা দিয়েছি।” শুভেন্দুর প্রশ্ন, রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হয়েও কেন তিনি এমন প্ররোচনামূলক মন্তব্য করছেন এবং কেন তাঁর বিরুদ্ধে আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে না?
বিজেপির এই অভিযোগকে ঘিরে পাল্টা সুর চড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে বিজেপি ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী কেবল সাধারণ মানুষকে সচেতন করছেন। তবে শুভেন্দু সাফ জানিয়েছেন, তাঁরা এই বিষয়টি নিয়ে শেষ পর্যন্ত লড়াই করবেন। কমিশনের কাছে তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হোক এবং স্পর্শকাতর বুথগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হোক। ভোটের আগে এই আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই বাংলার নির্বাচনকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।