ভারত এবং নিউজিল্যান্ডের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে। খুব শীঘ্রই নিউজিল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সফরের মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’ বা Free Trade Agreement (FTA)। যদি এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তবে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
বাণিজ্যের নতুন সমীকরণ: দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে মতপার্থক্যের কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। নিউজিল্যান্ড মূলত তাদের কৃষি এবং দুগ্ধজাত পণ্যের (যেমন পনির, মাখন) জন্য ভারতের বিশাল বাজারে প্রবেশাধিকার চায়। অন্যদিকে, ভারত চায় তাদের তথ্যপ্রযুক্তি (IT) পরিষেবা এবং দক্ষ কর্মীদের জন্য নিউজিল্যান্ডের শ্রমবাজারে আরও সহজ সুযোগ। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর সেই জট কাটাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে।
ভারতের লাভ কোথায়? এই চুক্তির ফলে ভারতের ওষুধ শিল্প (Pharmaceuticals), টেক্সটাইল এবং রত্ন-অলঙ্কার শিল্পের জন্য নিউজিল্যান্ডের বাজারে রপ্তানি শুল্ক অনেকটা কমবে। এছাড়া, নিউজিল্যান্ডের উন্নত প্রযুক্তি এবং কৃষি গবেষণার সুবিধা ভারত গ্রহণ করতে পারবে। কিউয়ি ফল থেকে শুরু করে সেদেশের বিশেষ খনিজ ও কাঁচামাল ভারতের বাজারে আরও সুলভ হবে।
কূটনৈতিক গুরুত্ব: প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিরক্ষা থেকে শুরু করে শিক্ষা—নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারে দুই দেশ। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। সব মিলিয়ে, মোদীর এই নিউজিল্যান্ড সফর কেবল বাণিজ্যে নয়, বিশ্ব রাজনীতিতেও ভারতের অবস্থান আরও মজবুত করবে।