বিশ্বজুড়ে কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক কিউবার পাশে দাঁড়িয়ে সংহতি প্রকাশ করেছে ভারতের সিপিআই (এম)। তবে আন্তর্জাতিক স্তরে এই দৃঢ় অবস্থান নিলেও, নিজের ঘরের মাঠ অর্থাৎ কেরলের নির্বাচনী বিপর্যয় সিপিএম নেতৃত্বের কাছে বড় ‘অস্বস্তি’র কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই অস্থির আবহের মধ্যেই দলের সাম্প্রতিক কেন্দ্রীয় স্তরের বৈঠকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের অনুপস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক জল্পনা।
কেরলের হারের প্রভাব: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে কেরলে এলডিএফ (LDF)-এর ঐতিহাসিক পরাজয় এবং কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ (UDF)-এর ব্যাপক জয় ভারতের বাম রাজনীতিতে বড় ধাক্কা। টানা দশ বছর ক্ষমতায় থাকার পর এই পরাজয়কে অনেকেই ‘শক ট্রিটমেন্ট’ হিসেবে দেখছেন। দলের অন্দরেই পিনারাই বিজয়নের কার্যপদ্ধতি এবং নির্বাচনী কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বৈঠকে অনুপস্থিতি নিয়ে চর্চা: সূত্রের খবর, দলের বিভিন্ন স্তরে পরাজয়ের কারণ খতিয়ে দেখার জন্য যে বৈঠকগুলি ডাকা হয়েছিল, সেখানে পিনারাই বিজয়নের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে বিভিন্ন মহলের নজর কেড়েছে। যদিও দলের পক্ষ থেকে এটি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি, তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা একে ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলেই মনে করছেন। অনেকে মনে করছেন, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দলের অভ্যন্তরে যে সমালোচনার সুর তৈরি হয়েছে, তারই প্রতিফলন এই দূরত্ব।
দলীয় অবস্থান: সিপিএমের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী হার নিয়ে দলের অন্দরে আত্মসমীক্ষা চলছে। ভুলত্রুটি সংশোধন করে এবং মানুষের ক্ষোভের জায়গাগুলো চিহ্নিত করে নতুন করে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে দল। পিনারাই বিজয়নকে সম্প্রতি কেরল বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে, যা থেকে স্পষ্ট যে দল তাঁকে এখনই পুরোপুরি প্রান্তিক করার পথে হাঁটছে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কিউবার মতো আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দল যখন ঐক্যবদ্ধ, তখন কেরলের সাংগঠনিক পরাজয় সামলানোই এখন পিনারাই বিজয়ন ও সিপিএম নেতৃত্বের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে আগামী দিনে দলের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বের মধ্যে বোঝাপড়া কোন দিকে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।
কেরলের বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের এই বড় পরাজয় কি ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে বামপন্থীদের প্রভাবকে আরও দুর্বল করবে বলে আপনি মনে করেন?





