২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই বঙ্গ রাজনীতির পারদ চড়ছে। তবে এবার বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের একটি মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের আগুন ছড়িয়ে পড়ল খাস কলকাতায়। বুধবার প্রচারের ময়দান থেকে দিলীপ ঘোষ সরাসরি ইঙ্গিত দিলেন যে, ভোটের আগে কেবল নেতা-মন্ত্রীদের বাড়ি নয়, খোদ কালীঘাটেও (মুখ্যমন্ত্রীর গড়) হামলা হতে পারে। এই মন্তব্যকে ‘সন্ত্রাসে উস্কানি’ হিসেবে দেগে দিয়ে বিকেলেই নির্বাচন কমিশনের (EC) দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
ঠিক কী বলেছেন দিলীপ ঘোষ? বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ বলেন:
“এখন তো কেবল শুরু। কালীঘাটেও হামলা হতে পারে, আর ভোটের আগে এটা হবেই। মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে আছে, তাঁদের আটকানো মুশকিল।”
তৃণমূলের অভিযোগ, এই বক্তব্যের মাধ্যমে দিলীপ ঘোষ আসলে বিজেপি কর্মীদের সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির এলাকায় হামলা করার জন্য প্ররোচিত করছেন।
কমিশনে তৃণমূলের মেগা নালিশ: তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল বুধবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে একটি দীর্ঘ অভিযোগপত্র জমা দেয়। সেখানে বলা হয়েছে:
-
দিলীপ ঘোষ নির্বাচনী আচরণবিধি (MCC) লঙ্ঘন করছেন।
-
তাঁর মন্তব্য সরাসরি শারীরিক হিংসায় উস্কানি দিচ্ছে।
-
অবিলম্বে তাঁর প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে এবং তাঁকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিতে হবে।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া: তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষ (প্রতীকী নাম) বলেন, “দিলীপ বাবু তাঁর পায়ের তলার মাটি হারিয়ে এখন পাগলের মতো প্রলাপ বকছেন। কালীঘাটে হামলার কথা বলে তিনি বাংলার সংস্কৃতি এবং গণতন্ত্রকে অপমান করছেন।”
বিজেপির সাফাই: পাল্টা যুক্তি দিয়েছে গেরুয়া শিবিরও। তাদের দাবি, “দিলীপ ঘোষ সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের কথা বলেছেন। তৃণমূলের শাসনে মানুষ এতটাই অতিষ্ঠ যে তাঁরা যে কোনো সময় প্রতিবাদে রাস্তায় নামতে পারেন, সেটাই তিনি বোঝাতে চেয়েছেন।”