কালীঘাটে পুজো দিয়েই রণংদেহি শুভেন্দু, ‘মমতার গড়ে’ দাঁড়িয়েই মমতাকে চরম হুঁশিয়ারি বিরোধী দলনেতার!

ভবানীপুরের ভোটযুদ্ধ এবার সপ্তমে। শনিবার সাতসকালে কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিয়ে নিজের নির্বাচনী প্রচারের শ্রীগণেশ করলেন বিজেপি প্রার্থী তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন মন্দিরে পৌঁছে নিষ্ঠাভরে দেবীর আরাধনা করেন তিনি। তবে ভক্তি আর রাজনীতির এই মিশেলে শুভেন্দুর মেজাজ ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। মন্দির থেকে বেরিয়েই সংবাদমাধ্যমের সামনে রীতিমতো বিষ্ফোরক বার্তা দিলেন তিনি, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

মমতার গড়ে দাঁড়িয়েই চ্যালেঞ্জ
কালীঘাট তথা ভবানীপুরকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পৈতৃক ভিটে’ এবং শক্ত দুর্গ হিসেবেই চেনে রাজনৈতিক মহল। সেই গড়েই দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী এদিন দাবি করেন, ভবানীপুরের মানুষ এবার পরিবর্তন চাইছেন। মন্দির থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, “মা কালীর আশীর্বাদ নিয়ে আমি লড়াইয়ে নেমেছি। অধর্মের বিনাশ আর সত্যের জয় নিশ্চিত। এই লড়াই দুর্নীতির বিরুদ্ধে, এই লড়াই মানুষের অধিকার রক্ষার।” শুভেন্দুর এই মন্তব্যের নিশানায় যে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর পরিবার, তা বুঝতে কারো বাকি থাকেনি।

বিষ্ফোরক বার্তা ও প্রচারের রণকৌশল
এদিন শুভেন্দু অধিকারীর গলায় শোনা গিয়েছে চরম আত্মবিশ্বাসের সুর। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের শাসকদল পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভোট লুট করার চেষ্টা করছে, কিন্তু ভবানীপুরের সচেতন নাগরিকরা তা রুখে দেবেন। বিরোধী দলনেতার কথায়, “ভয় দেখিয়ে ভোট পাওয়ার দিন শেষ। মানুষের মনে যে ক্ষোভ আছে, তা ব্যালট বক্সেই প্রতিফলিত হবে।” কালীঘাট মন্দিরের সামনে শুভেন্দুর এই হুঙ্কার বিজেপি কর্মীদের মনে বাড়তি অক্সিজেন যুগিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

পুজো সেরে বেরিয়েই শুভেন্দু সোজা চলে যান জনসংযোগ সারতে। ভবানীপুরের অলিতে-গলিতে আজ থেকেই শুরু হয়েছে তাঁর হাই-ভোল্টেজ প্রচার। অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকেও পাল্টা আক্রমণ শুরু হয়েছে। শাসকদলের দাবি, ভবানীপুর ঘরের মেয়ে মমতার সাথেই ছিল এবং থাকবে, শুভেন্দুর ‘নাটক’ এখানে কাজ করবে না। সব মিলিয়ে নির্বাচনের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, ভবানীপুরের লড়াই ততই ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক স্তরে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy