দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েনের পর মালদহের কালিয়াচক কাণ্ডে বড়সড় নির্দেশ দিল দেশের শীর্ষ আদালত। এই মামলার গুরুত্ব এবং আন্তর্জাতিক যোগসূত্র খতিয়ে দেখতে মূল অভিযুক্তদের দ্রুত জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ (NIA)-র হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে রাজ্য পুলিশের অসহযোগিতার যে অভিযোগ উঠেছিল, আদালতের এই নির্দেশের পর তাতে বড়সড় ধাক্কা খেল নবান্ন।
শীর্ষ আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ: এদিন মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায়, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদ দমনের স্বার্থে এই ধরণের স্পর্শকাতর মামলার তদন্ত কোনো বিশেষ কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে থাকা জরুরি। অভিযুক্তদের জেরা করে এই ঘটনার শেকড় কতদূর বিস্তৃত, তা খুঁজে বের করাই এখন এনআইএ-র মূল লক্ষ্য। নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টের গণ্ডি পেরিয়ে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছালে আজ এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কী ঘটেছিল কালিয়াচকে? উল্লেখ্য, কালিয়াচকের সেই বিতর্কিত ঘটনার পর থেকেই উত্তাল ছিল রাজ্য রাজনীতি। বিস্ফোরণ বা নাশকতার ছক— যাই হোক না কেন, ঘটনার ভয়াবহতা খতিয়ে দেখে শুরু থেকেই এনআইএ এই মামলার দায়িত্ব নিতে চেয়েছিল। কিন্তু অভিযুক্তদের হেফাজতে পাওয়া এবং নথিপত্র হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বারবার আইনি জটিলতা তৈরি হচ্ছিল। সুপ্রিম কোর্টের আজকের নির্দেশে সেই জট পুরোপুরি কেটে গেল।
তদন্তে নয়া মোড়: প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, কালিয়াচক কাণ্ডের সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ বা জালনোট চক্রের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, এনআইএ এখন সেটাই খতিয়ে দেখবে।
অভিযুক্তদের জেরা: মূল পাণ্ডাদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করলে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসতে পারে।
নেটওয়ার্ক ধ্বংস: স্থানীয় স্তরে কারা এই অভিযুক্তদের মদত দিচ্ছিল, তাদের তালিকা তৈরি করবে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
অস্ত্র ও বিস্ফোরক যোগ: উদ্ধার হওয়া নথিপত্রের ভিত্তিতে বিস্ফোরকের উৎস সন্ধানে তল্লাশি চালানো হবে।
রাজনৈতিক মহলে শোরগোল: ভোটের মুখে সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিরোধী দলগুলি। তাদের দাবি, রাজ্য পুলিশ তথ্য ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছিল বলেই মামলাটি এনআইএ-র হাতে গেল। অন্যদিকে, শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনো কড়া প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আপাতত কালিয়াচক কাণ্ডের ‘মাস্টারমাইন্ড’দের দিল্লি বা কলকাতায় এনআইএ-র বিশেষ দফতরে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।





