কাটমানি না দিলে সরকারি মঞ্চে নো-এন্ট্রি! শুভেন্দুর ‘জনতার দরবার’-এ বিস্ফোরক শিল্পীরা

মঙ্গলবার সল্টলেকের বিজেপি দফতরে আয়োজিত মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’-এর তৃতীয় দিনে এক অভাবনীয় দৃশ্যের সাক্ষী থাকল রাজ্য। সকাল ৯.৪৫ মিনিট নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পৌঁছাতেই অভাব-অভিযোগ নিয়ে ভিড় জমান অসংখ্য মানুষ। তবে এদিনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল বাংলার সঙ্গীত জগতের এক অন্ধকার দিক— কাটমানি ও সিন্ডিকেট রাজ।

এদিন দরবারে হাজির হয়ে প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল জমানার প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে সরাসরি লবিবাজি ও কাটমানি আদায়ের অভিযোগ তোলেন। ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তৎকালীন মন্ত্রী নিজের ঘনিষ্ঠ লবির শিল্পীদের সরকারি অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার সুযোগ করে দিতেন এবং বিনিময়ে শিল্পীদের কাছ থেকে কাটমানি নেওয়া হতো। ঋদ্ধি আক্ষেপ করে বলেন, ‘‘ইন্দ্রনীল সেনের তৈরি নেক্সাসের জন্য যোগ্য শিল্পীরা কাজ থেকে বঞ্চিত হতেন। যারা যোগ্য, তাদের ব্যান করে দেওয়া হতো।’’

শিল্পীর অভিযোগের বহর এখানেই শেষ নয়। তিনি সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির আঙুল তুলেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমি নিজের রাজ্যেই সরকারি কাজ পাই না। আমার নাম দেখলে সরকারি হল পর্যন্ত বরাদ্দ করা হয় না। এ কি কারও বাবার সম্পত্তি? রবীন্দ্রসদন কি ইন্দ্রনীল সেনের বাবা তৈরি করে গিয়েছিলেন? নবান্ন থেকে নির্দেশ আসত কাকে কাজ দেওয়া হবে আর কাকে দেওয়া হবে না।’’ এই মনোপলি বা একাধিপত্যের তীব্র নিন্দা করে শিল্পী বলেন, পুরো ব্যবস্থাটি আজ পচে গেছে। চারদিকে স্বার্থান্বেষী মানুষের ভিড়, যারা কেবল নিজের ধান্দা হাসিল করতেই ব্যস্ত।

মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’-এ আসা শিল্পীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে একটি সিন্ডিকেট বাংলার সংস্কৃতি জগতকে নিয়ন্ত্রণ করছিল। যোগ্য শিল্পীরা ব্রাত্য ছিলেন, আর মন্ত্রী ঘনিষ্ঠরা সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতেন। এই কাটমানি ও লবিবাজির রাজনীতি থেকে মুক্তি চেয়েই তারা আজ বর্তমান সরকারের কাছে বিচারের আশায় দরবার করেছেন।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ধৈর্য সহকারে সকলের অভাব-অভিযোগ শোনেন। শিল্পীমহলের এই বিস্ফোরক অভিযোগের পর স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে প্রবল চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তৃণমূল আমলে সংস্কৃতি জগতে যে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছিল, তা যে অচিরেই নিরাময় করা প্রয়োজন, তা শিল্পীদের আক্ষেপেই স্পষ্ট। জনদরবারে শিল্পীদের এই সরব প্রতিবাদ প্রমাণ করে, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে মানুষ এখন সরাসরি সরকারের দরজায় কড়া নাড়ছেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy