পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের পারদ চড়ছে। তবে রাজনীতির কাদা ছোড়াছুড়ির মাঝেও এক অনন্য সৌজন্যের ছবি ধরা পড়ল শাসক শিবিরের অন্দরে। পানিহাটির তৃণমূল প্রার্থী তথা প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষ সাফ জানিয়ে দিলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী অর্থাৎ আরজি করের নির্যাতিতা ‘তিলোত্তমা’-র মায়ের বিরুদ্ধে তিনি একটি শব্দও খরচ করবেন না। তবে বিজেপি প্রার্থীর প্রতি এই অগাধ শ্রদ্ধা থাকলেও বাম প্রার্থী কল্লোতান দাসগুপ্তকে বিঁধতে বিন্দুমাত্র ছাড়লেন না তিনি।
রবিবার সকালে পানিহাটি এলাকায় জোরকদমে প্রচার সারেন তীর্থঙ্কর। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে যখন তিলোত্তমার মায়ের লড়াই এবং বিজেপির টিকিটে তাঁর প্রার্থী হওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন তীর্থঙ্কর হাতজোড় করে বলেন, “আমি কাকিমাকে নিয়ে কিছুই বলব না। তিনি আমাদের শ্রদ্ধেয়। তাঁর প্রতি আমার অগাধ সম্মান রয়েছে। রাজনীতি নিজের জায়গায়, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্য করার ধৃষ্টতা আমার নেই।” শাসক দলের প্রার্থীর এই ‘স্পিকটি নট’ অবস্থান রাজনৈতিক মহলে বেশ চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে বিজেপি প্রার্থীর প্রতি নরম মনোভাব দেখালেও বামেদের ক্ষেত্রে তীর্থঙ্করের মেজাজ ছিল একদম উল্টো। সিপিআইএম প্রার্থী কল্লোতান দাসগুপ্তকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “কল্লোতানবাবু তো শুধু টিভির পর্দায় আর মিছিলে গলা ফাটান। মানুষের সুখে-দুঃখে তাঁকে এলাকায় দেখা যায় না। পানিহাটির মানুষ জানে কারা সারা বছর তাঁদের পাশে থাকে।” কল্লোতানের আন্দোলনকে ‘জনবিচ্ছিন্ন রাজনীতি’ বলে অভিহিত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, আরজি কর কাণ্ডের পর তিলোত্তমার মায়ের সক্রিয় রাজনীতিতে আসা এবং পানিহাটি থেকে বিজেপির প্রার্থী হওয়া রাজ্য রাজনীতির অন্যতম বড় ঘটনা। বিরোধীরা যখন এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে শাসক দলকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে, তখন তীর্থঙ্করের এই কৌশলগত মৌনতা এবং সৌজন্য প্রদর্শন ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার। একদিকে শ্রদ্ধার লড়াই, অন্যদিকে উন্নয়নের দাবি— দুইয়ের সমীকরণে পানিহাটির ভোটযুদ্ধ এখন আক্ষরিক অর্থেই হাইভোল্টেজ।