কাঁদছেন যাত্রীরা, বরকে ছাড়াই বিয়ে! IndiGo বিপর্যয়ে দেশজুড়ে বিমানবন্দর ‘কবরখানা’, কেন এই ভয়াবহ সঙ্কট?

গত কয়েকদিন ধরে ইন্ডিগো (IndiGo) এয়ারলাইন্সের পরিষেবা বিপর্যয়ের জেরে দেশজুড়ে বিমান পরিবহণ ব্যবস্থায় চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই শত শত ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে এবং হাজার হাজার উড়ান দেরিতে চলছে। দেশের প্রতিটি বড় বিমানবন্দরে আটকে পড়েছেন বহু যাত্রী। পরিস্থিতি এতটাই করুণ যে, কোথাও মহিলারা লাইনে দাঁড়িয়ে কাঁদছেন, আবার কোথাও গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

💔 বিয়ে থেকে শেষকৃত্য: মানবিক বিপর্যয়ের রূঢ় চিত্র

এই ভোগান্তির জেরে বহু যাত্রীর জীবনে নেমে এসেছে অপ্রত্যাশিত সঙ্কট। কেউ প্রিয়জনকে শেষবারের মতো দেখতে পাচ্ছেন না, কেউ বাবার অস্থি বিসর্জন দিতে গিয়ে বিমানবন্দরেই আটকে পড়েছেন, আবার কেউ নিজের বিয়েতে পৌঁছাতে পারছেন না।

  • বিয়ে মিস বর: সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে এক হতাশ যুবককে বলতে শোনা যায়, “আমি বিয়ে করছি, আমিই বর, কিন্তু আমি আমার নিজের বিয়েতে যেতে পারছি না।”

  • ভিডিও কলে রিসেপশন: কর্ণাটকের হুবলি থেকেও একই ধরনের মন খারাপ করা ঘটনা সামনে এসেছে। বর সঙ্গম দাস এবং কনে মেধা ক্ষীরসাগর বেঙ্গালুরু থেকে হুবলি যাচ্ছিলেন। কিন্তু ২০ ঘণ্টা দেরির পর ফ্লাইট বাতিল হওয়ায়, উপায় না পেয়ে নবদম্পতিকে ভিডিও কলের মাধ্যমে নিজেদের রিসেপশন পার্টিতে যোগ দিতে হয়।

  • অস্থি নিয়ে আর্তি: বেঙ্গালুরু বিমানবন্দর থেকে নমিতা নামে এক যাত্রী জানান, বাবার অস্থি বিসর্জন দিতে তাঁর হরিদ্বারে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ফ্লাইট বাতিলের ফলে তিনি বিমানবন্দরেই আটকে পড়েন এবং শেষকৃত্যের সময় পেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন।

এসবের পাশাপাশি বহু যাত্রী গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা এবং ক্যারিয়ারের সুযোগও মিস করছেন।

⚙️ কেন এই মহাবিপদ? নতুন DGCA নিয়মের প্রভাব

এই চরম ভোগান্তির জন্য অনেকেই দায়ী করছেন ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA)-এর নতুন নিয়মকে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পাইলট ও বিমানকর্মীদের কাজের সময় (Flight Duty Time Limitations) নির্দিষ্ট করে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশের পর জুন ও নভেম্বর মাসে ধাপে ধাপে তা কার্যকর করতে শুরু করে DGCA।

মূল সমস্যা যেখানে:

  • বিশ্রামের সময় বৃদ্ধি: পাইলটদের সাপ্তাহিক বিশ্রাম ৩৬ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ৪৮ ঘণ্টা করা হয়েছে।

  • নাইট ল্যান্ডিং: প্রতি সপ্তাহে রাতে মাত্র ২টি বিমান অবতরণ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আগে এই সংখ্যা ছিল ৬টি।

  • নাইট ডিউটি: পাইলট ও বিমানকর্মীদের নাইট ডিউটি সপ্তাহে পরপর দু’দিন একবারই দেওয়া যাবে।

ইন্ডিগোর মতো এয়ারলাইন্সের বিপুল সংখ্যক বিমান রাতে চলাচল করে। কিন্তু নতুন বিধি কার্যকর করার ফলে নিয়ম মেনে পরিষেবা দিতে যে সংখ্যক পাইলট প্রয়োজন, তা ইন্ডিগোর কাছে পর্যাপ্ত নেই। সস্তা হওয়ার কারণে এমনিতেই ইন্ডিগোর উপর যাত্রীচাপ বেশি থাকে, ফলে এই সংস্থার পরিষেবাতেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে।

⏳ কবে স্বাভাবিক হবে পরিষেবা?

শুক্রবার ইন্ডিগোর CEO পিটার এলবার্স ভিডিও বিবৃতিতে যাত্রীদের কাছে এই বিশৃঙ্খলা ও অসুবিধার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন, বিগত কয়েক দিনে ১,০০০-এরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

সিইও আশ্বাস দিয়েছেন, ইন্ডিগো পরিষেবা স্বাভাবিক ছন্দে ফেরাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে এবং আগামী ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ ভাবে আগের ছন্দে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy