কলকাতার বিষাক্ত বাতাসে বিপন্ন শৈশব! শিশুদের বাঁচাতে এবার নবান্ন নয়, পুরসভার সঙ্গে নামছে ইউনিসেফ

তিলোত্তমার বাতাসে বিষ! শীতের বিদায়বেলায় কলকাতার বায়ুদূষণ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর। ক্রমাগত বাড়তে থাকা দূষণের জেরে হু হু করে বাড়ছে শিশুদের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা। শহরের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোর আউটডোরে এখন খুদে রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। এই সংকটজনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার কলকাতা পুরসভার সঙ্গে হাত মেলালো বিশ্বখ্যাত সংস্থা ইউনিসেফ (UNICEF)। মূলত শিশুদের ফুসফুসকে সুরক্ষিত রাখতে এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতেই এই দুই পক্ষ একযোগে কাজ শুরু করেছে।

কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, গত কয়েক সপ্তাহে শহরের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) একাধিকবার ‘বিপজ্জনক’ মাত্রা স্পর্শ করেছে। ধোঁয়াশা এবং ধূলিকণার দাপটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্কুলপড়ুয়ারা। ইউনিসেফের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দূষিত বায়ুর কারণে শিশুদের ফুসফুসের বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে, যা পরবর্তী জীবনে বড় ধরনের ক্রনিক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কলকাতা পুরসভা ও ইউনিসেফ যৌথভাবে শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিশেষ মনিটরিং ইউনিট বসাবে, যা সরাসরি শিশুদের ওপর দূষণের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করবে।

মেয়র ফিরহাদ হাকিম এই জোট প্রসঙ্গে জানান, “আমরা শহরকে সবুজ করতে বদ্ধপরিকর। ইউনিসেফের প্রযুক্তিগত সহায়তা আমাদের দূষণ নিয়ন্ত্রণে নতুন দিশা দেখাবে।” এই প্রকল্পের আওতায় কলকাতার স্কুলগুলোতে ‘এয়ার পিউরিফায়ার’ লাগানো এবং স্কুল চত্বরে আরও বেশি গাছ লাগানোর ওপর জোর দেওয়া হবে। পাশাপাশি, অভিভাবকদের সচেতন করতে পাড়ায় পাড়ায় প্রচার চালাবে পুরসভার স্বাস্থ্যকর্মীরা। মূলত কোন সময়ে শিশুদের বাইরে বের করা উচিত নয় এবং মাস্কের ব্যবহার কতটা জরুরি, সে বিষয়ে বিশেষ গাইডলাইন তৈরি করা হচ্ছে।

পরিবেশবিদদের মতে, গাড়ির ধোঁয়া এবং নির্মাণকাজের ধুলো কলকাতার বায়ুকে রীতিমতো বিষাক্ত করে তুলেছে। ইউনিসেফের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থা এগিয়ে আসায় তথ্যগত এবং প্রযুক্তিগতভাবে এই লড়াই আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই প্রকল্পের সুফল শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে দেখা যাবে বলে দাবি করছে পুর কর্তৃপক্ষ। শহরের শৈশবকে বুকভরে শ্বাস নিতে দেওয়ার এই লড়াই এখন কতটা সফল হয়, সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy