কলকাতায় ফের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা! মঙ্গলবার সকালের শুরুতেই নরেন্দ্রপুরের একটি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গিয়েছে। আগুনের লেলিহান শিখা এবং ধোঁয়ায় কারখানার অভ্যন্তরে চরম আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং আগুন নেভানোর কাজে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের দুটি ইঞ্জিন।
উল্লেখ্য, গত মাসের মাঝামাঝি সময়েও নরেন্দ্রপুরের একই এলাকায় একটি কারখানায় আগুন লেগেছিল। সেবার দমকলের তৎপরতা এবং কর্মীদের বুদ্ধিমত্তায় বড় কোনো অঘটন ঘটেনি। দমকল ও সোনারপুর থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কারখানার যে গোডাউনে কার্টন মজুত ছিল, সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত। একটি ঘরের ভেতর থেকে আগুন দ্রুত পাশের অংশে ছড়িয়ে পড়ে। যদিও কারখানার কর্মীরা প্রাথমিকভাবে নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ব্যবহার করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত দমকলের দ্বারস্থ হতে হয়।
চলতি বছর কলকাতায় একের পর এক অগ্নিকাণ্ড জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। আনন্দপুরের জোড়া গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ক্ষত এখনও টাটকা। সেই ঘটনায় ডেকরেটার্সের গুদাম থেকে আগুন মোমো কারখানাতেও ছড়িয়ে পড়েছিল। দমকলের ১২টি ইঞ্জিন দীর্ঘ দেড় দিন চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় সেই সময় আগুন দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল।
গত মে মাসে তপসিয়ার একটি বহুতলের অগ্নিকাণ্ডও রাজ্যবাসীকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। পাঁচতলার ওই বহুতলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দু’জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। আগুনের তীব্রতার কারণে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে দমকলকর্মীদের চরম বেগ পেতে হয়েছিল। একের পর এক এমন ঘটনা শহরে অগ্নিনির্বাপণ পরিকাঠামো এবং শিল্পকারখানায় সুরক্ষাবিধি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও কেন এই ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে, তা নিয়ে বাড়ছে জনমানসে ক্ষোভ। আপাতত নরেন্দ্রপুরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এই ধরনের ঘটনায় শিল্পাঞ্চলগুলির সুরক্ষাবলয় আরও কঠোর করার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।





